বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডর সুবিধাজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হল কোনো দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি জনসংখ্যার আধিক্য। বাংলাদেশে এখন এই জনসংখ্যার আধিক্য আছে। কিন্তু এই বয়সের একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠির প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করতে পারছে না। তরুণদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক কোন নীতিমালা নেই। বয়:সন্ধিকালের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা বিষয় সামাজিক ট্যাবু বিদ্যমান । অবস্থা পরিবর্তনে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক নীতিমালা জরুরী বলে মন্তব্য করেন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলন ও জ্ঞানমেলায় বক্তরা। তারা বয়:সন্ধিকালের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা সবার জন্য সহজলভ্য প্রবেশগম্য করার তাগিদ দেন।
বৃহস্পতিবার নগরীর একটি হোটেলে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ক নবম বার্ষিক সম্মেলন ও জ্ঞানমেলা ২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: সাইফুল্লাহিল আজম। “তারুণ্যের শক্তি ২০২৪- তরুণদের ছেড়ে কিছুই নয়’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, শেয়ার-নেট বাংলাদেশ স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারপার্সন ডা. হালিদা হানুম আক্তার। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেড অরেঞ্জ কমিউনিকেশন্স -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্ণব চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতি সংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর ঢাকা অফিসের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান, ড. বিভাবেন্দ্র রঘুবংশী, নেদারল্যান্ডস্ দূতাবাসের চার্জ-ডিএফেয়ার্স মি. থাইজ উডস্ট্রা । সমাপনি অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে ইইউ ডেলিগেশনের উপ-প্রধান ড. বার্নড স্পেনিয়ার।
মো: সাইফুল্লাহিল আজম বলেছেন,তরুণরাই ভবিষ্যত বাংলাদেশের রূপকার। তাদেরকে বাইরে রেখে, তাদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় না নিয়ে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয় এবং তরুণ-প্রধান জনসংখ্যার বাংলাদেশে তাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। তিনি তরুণদের প্রতি সামাজিক বৈষম্যহীনতা, ন্যায়বিচার এবং নিজেদের অধিকার দাবী করার আহ্বান জানান। তিনি তরুণসহ দেশের সকল মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষমতায়িত জীবন প্রত্যাশা করেন।
ড. বিভাবেন্দ্র রঘুবংশী বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও সচেতনতা ছাড়া জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং এবিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৩)অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে তরুণদের সচেতন তরুণের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
থাইজ উডস্ট্রা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু এই অর্থনীতি তরুণদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারছেনা। তরুণরা শুধু মাত্র সুবিধাভোগী নয়, দেশের স্বাস্থ্য, নারী-পুরুষের সমতা, এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ক্ষেত্রে উন্নয়নের অংশদার হওয়া দরকার।
অনুষ্ঠানে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কয়েকটি প্রেজেনটেশন উপস্থাপনা করা হয়। অধিবেশন গুলোতে ও দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা এবিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয় দেশে ১৮ বছরের আগে দেশে ৫১শতাংশ মেয়ের বিয়ে হার। এক হাজার জনে ৩০ জন মা,১৮ বছরের আগে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম দেয়। এইচআইভি-সম্পর্কে তরুণদের জানার সুযোগ কম। প্রতিবন্ধী-তরুণ-তরুণীরা প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনে অনেক পিছিয়ে। যৌনকর্মী, রহিঙ্গা জনগোষ্টি, প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণী,বেদেজনগোষ্ঠিসহ৬ রকমের জনগোষ্টি বেশি ঝুকিঁতে আছে। সম্মেলনে তরুণ নেতৃত্বে প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়।
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনটি বিভাগে শেয়ার-নেট বাংলাদেশ স্বীকৃতি পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে মেলা শেষ হয়। ‘আজীবন অবদানের স্বীকৃতি’ সম্মাননা পুরষ্কার পেয়েছেন, হেল্থ ওয়াচ-এর উপদেষ্টা, পরামর্শক ডা.ইয়াসমিন হেমায়েত আহমেদ, কমিউনিটি সম্মাননা পেয়েছেন জুলিয়া আহমেদ, এবং‘তরুণ সম্মাননা’ পেয়েছেন সেরাক এসইআরএসি বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ড সদস্য তাজকিয়া মরিয়ম জাহান।

