বাফুফে সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য সভাপতি পদে মনোনয়ন তুলেছেন প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি নিজে মনোনয়নপত্র তোলেননি, তার ক্লাব নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন বেলা দেড়টায় বাফুফে ভবনে গিয়ে ফরম তুলে আনেন। নিজে না এসে কেন প্রতিনিধি পাঠালেন সেই প্রশ্নে শাহীন বলেন, 'উনি (তাবিথ আউয়াল) সামাজিক কর্মকাণ্ডে গিয়েছেন। তাই নিজে আসেননি।'
আগামীকাল মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিন। গতকাল আরও এক জন সভাপতি পদে প্রার্থীর খোঁজ পাওয়া গেছে। মিজানুর রহমান নামের এক জন অচেনা অজানা ভাতিজাকে দিয়ে মনোনয়ন ক্রয় করেছেন ১ লাখ টাকায়। তিনি দিনাজপুরের মানুষ। ব্যাংকে চাকরি করতেন। অবসরপ্রাপ্ত জীবন কাটাচ্ছেন। তাকে তাবিথের প্রতিপক্ষ কেউ দাঁড় করিয়েছেন নাকি মিজানুর রহমান নিজেই দাঁড়িয়েছেন সেটি পরিষ্কার নয়। তাবিথের কাছে জানতে চাইলে তিনিও চিনতে পারেননি। ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে। এ কারণে যে কেউ এই সুযোগ গ্রহণ করতে চায়।
সাবেক ফুটবলার এবং সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক কাজী সালাহউদ্দিনের বিপক্ষে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছিলেন। ভেবে ছিলেন সাবেক ফুটবলারদের অনেকেই তো সালাউদ্দিনকে গালমন্দ করেন। মানিক যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন তাহলে সেই সব সাবেক ফুটবলার সালাহউদ্দিনের বিপরীতে ভোট দেবেন। মানিকের পক্ষে ব্যালট বক্স ভরে যাবে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে আশায় গুড়ে বালি ছিটিয়ে দিয়েছেন ভোটাররা। শফিকুল ইসলাম মানিক ১ ভোট পেয়েছিলেন। সেই ১ ভোটের গল্প নিয়ে আজও ক্রীড়াঙ্গনে কৌতূহলী আলোচনা হয়-কে দিয়েছিল ১ ভোট।'
বাফুফের বর্তমান সদস্য, গাজীপুরের নুরুল ইসলাম নুরুও একবার সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনে পরে তিনি প্রার্থী হননি। সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। বাফুফের সভাপতি পদে নাকি আরও একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনতে পারেন। সবার আগে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েও এখনো মনোনয়ন তোলেননি তরফদার রুহুল আমিন। আদৌ তিনি নির্বাচন করবেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। এ ব্যাপারে রুহুল আমিন তরফদার নিজে কোনো ঘোষণা না দিলেও তারই ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন না। শোনা যাচ্ছে তিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আলোচনা করতে করতে বাফুফের সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র তুলে ফেলেছেন। ফলে এই পদ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আগেভাগেই বলা যায়। কারণ যতদূর জানা গেছে, ইমরুল হাসান একটা পদের জন্যই মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। সহজেই অনুমান করা যায়, যদি আগামীকাল শেষ দিনে ইমরুল হাসান অন্য কোনো পদের জন্য মনোনয়নপত্র না তোলেন তাহলে তিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি পদেই নির্বাচন করবেন।
ইমরুল যদি নিজের অবস্থান যদি শক্ত রাখতে চান তাহলে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। আর যদি সমঝোতার টেবিলে বসেন, তাহলে সেটি ভিন্ন রূপ নিতে পারে। বাফুফের নির্বাচন কোন পথে এগোচ্ছে, সেটি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে আগামীকাল মনোনয়নপত্র বিক্রির শেষ দিনে। অনেক নাটকীয় চিত্র দেখা যাবে। মনোনয়নপত্র কিনলে বোঝা যাবে কে কোন পদের জন্য আগ্রহী। তার আগ পর্যন্ত বলা যায়, সভাপতি পদে তাবিথ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ইমরুল হাসান মনোনয়নপত্র তুলে এ দুটি পদের জন্য তারা এগিয়ে থাকলেন।
