ফিল সিমন্স কোচ হিসেবে কেমন?

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ২০:৪৭

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফিল সিমন্সকে অন্তর্বর্তীকালীন টাইগারদের নতুন হেড কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর আগে কোচ চন্ডিকা হাথুরাসিংহকে বরখাস্ত করেছে বিসিবি। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানায় বিসিবি। তবে ফিল সিমন্সের ক্রিকেট ও কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হল।

কোচিং ক্যারিয়ার
ফিল সিমন্স আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশে। ৬১ বছর বয়সী ক্যারিবিয়ান এই কোচ এর আগে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের দুই মেয়াদে প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বিশ্বকাপে ছিলেন পাপুয়া নিউগিনির বিশেষজ্ঞ কোচের দায়িত্বে। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বিভিন্ন দলকে কোচিং করিয়েছেন সিমন্স। গত পিএসএলে তিনি করাচি কিংসের হেড কোচ ছিলেন। মেজর লিগে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সের হেড কোচ ছিলেন তিনি।

২০০২ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত হন তিনি। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পান। তবে এক বছরের মাথায় ২০০৫ সালে বরখাস্ত হন তিনি।  এর পর ২০০৭ সালের ওয়ান-ডে বিশ্বকাপের পর আয়ারল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব থেকে আদ্রিয়ান বিরেল পদত্যাগ করলে সিমন্স তার স্থলাভিষিক্ত হন। মার্চ, ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার কোচিংয়ে আয়ারল্যান্ড ২০১১ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে ও ইংল্যান্ডেকে হারায়।

আয়ারল্যান্ডের দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই নিজের দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন সিমন্স। ২০১৬ সালে তার সময়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলে। ওই বছরই তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। 

ফিল সিমন্স আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচ ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালে প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। আফগানিস্তানে ক্রিকেটে কাজ করেন ২ বছর। ২০১৯ সালে আবার কোচ হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর তিনি পদত্যাগ করেন। এবার বাংলাদেশ দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে যুক্ত হলেন। 

২১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই শুরু হচ্ছে ফিল সিমন্সের বাংলাদেশ অধ্যায়। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। মাঝখানে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আছে বাংলাদেশের। আপাতত এই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করবেন সিমন্স।

ক্রিকেট ক্যারিয়ার
ফিল সিমন্স নামটা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে পরিচিতই। তবে তা মূলত কোচ হিসেবে। নব্বই দশকে ক্রিকেটার হিসেবে আরও বেশি পরিচিত ছিলেন সাবেক এই ওপেনার। শুধু ওপেনার না বলে অলরাউন্ডারও বলতে পারেন। কারণ, মিডিয়াম পেস বোলিংটা মোটামুটি ভালোই করতেন। টেস্ট রেকর্ড অবশ্য তেমন আহামরি নয়। ২৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৭ ইনিংসে বেশির ভাগ সময় ওপেনই করেছেন। ১ সেঞ্চুরি ও ৪টি ফিফটিসহ ২২.২৬ গড়ে করেছেন ১০০২ রান। বোলিংয়ে মাত্র ৪ উইকেট।

বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোচ সিমন্সের সর্বশেষ জাতীয় দল ছিল পাপুয়া নিউগিনি। জাতীয় দলের বাইরে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ওয়ানডেতে অবশ্য রেকর্ড বেশ ভালো। যেখানে তিনি সত্যিকার অলরাউন্ডার। ১৪৩ ম্যাচে ১৩৮ ইনিংসে ২৮.৯৩ গড়ে ৩৬৭৫ রান করেছেন। ৫ সেঞ্চুরি ও ১৮ ফিফটি। ১০৩ ইনিংসে বোলিং করে নিয়েছেন ৮৩ উইকেট। ৪.৪৪ ইকোনমি রেটে বোলিং করা সিমন্সের ইনিংসসেরা বোলিং সিডনিতে ১৯৯২ বেনসন–হেজেজ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১০–৮–৩–৪! ওয়ানডে ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সেরা কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ড (ওভারপ্রতি ০.৩০ রান করে)। ওভারপ্রতি ০.২০ করে রান দিয়ে এ তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার শন অ্যাবোট (৫–৪–১–২)। তবে পুরো ১০ ওভারের বোলিং তালিকায় সিমন্সের ওই স্পেলই কিপটেমিতে সেরা।

১৯৮৮ সালে ভিভ রিচার্ডসের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ১৯৯৯ সালে শেষ (ওয়ানডে) আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন সিমন্স। সেটি ছিল ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অর্থাৎ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম আসার পর বিদায় নিয়েছেন সিমন্স। 

 

 

ইত্তেফাক/কেএইচ