গত কয়েক দিন ধরে ছিল পুজার ছুটি। আজ রোববার খুলবে ক্যাম্পাস। বন্ধ থাকলেও গতকাল নবীনদের আগমনে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। হাসিখুশি মুখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তারা। কেননা আবাসিক হল থেকে 'গণরুম' বিদায় হয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে এসে সরাসরি চলে গিয়েছেন বরাদ্দকৃত হলে, উঠে যাচ্ছেন সিঙ্গেল সিটে। এতে বেশ উচ্ছ্বসিত নবীন শিক্ষার্থীরা।
গতকাল শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র ছিল এমনই। তবে শুধুমাত্র 'গণরুম কালচার' বিলুপ্তিই নয়, নানা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। জানা যায়, আজ রবিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩- ২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের (৫৩তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হচ্ছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেন নবীন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে গত ১৫ জুলাই রাতে ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চলে যান। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীরা হলে ফিরতে পারলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ফিরতে পারেননি। ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে অবৈধভাবে চার জনের কক্ষ একাই দখলে রাখায় সে কক্ষগুলো খালিই পড়ে ছিল। এছাড়া প্রশাসনের নানা উদ্যোগে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া অনেকেই ইতিমধ্যে হল ছেড়ে দিয়েছেন। এ সকল কারণে আবাসিক হলগুলোতে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন ফাঁকা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রথম দিনেই হলে সিঙ্গেল সিট পেয়ে খুশি নবীন শিক্ষার্থীরা।
শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক ছাত্র ও অর্থনীতি বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, 'প্রথম থেকে ভয়ে ছিলাম যে, গণরুমে র্যাগিংয়ে সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু এখানে আসার পর রীতিমতো অবাক হলাম। হল প্রশাসন ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নিয়েছে।'
রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, 'আমাদের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু ও বান্ধবীরা যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা বা মেসে থাকছেন, সেখানে আমরা এখানে ক্লাস শুরুর আগেই হলে সিট পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য অনেক সৌভাগ্যের।'
প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, 'জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র-জনতার প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনের দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শে সকল প্রাধ্যক্ষদের রাত-দিন পরিশ্রমের ফলে আমরা নবীন শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল সিট নিশ্চিত করতে পেরেছি। ফলে হলগুলো থেকে বিলুপ্ত হয়েছে গণরুম ও মিনি গণরুম।'
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, 'নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ হলে প্রথম দিনেই সিট পাবে-এটা তাদের অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আবাসিক হলে এবং অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতেও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব।'
