যৌন স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশে অন্যতম প্রভাবশালী নাম হয়ে উঠেছেন ডা. এসআর খান। চিকিৎসক হিসেবে অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে টেস্টোলাইফ হাসপাতাল, যেখানে তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজের পাশাপাশি গবেষণায়ও নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
ডা. এসআর খান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রির জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার লক্ষ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা প্রদান নয়, বরং যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে বিশ্বের যে কেউ সহজে সুচিকিৎসা পেতে পারে।
কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা ডা. এসআর খান তার চিকিৎসা জীবনের সূচনা করেছিলেন গ্রামের মানুষকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি মানুষের যৌন সমস্যাগুলোকে সামনে এনে তাদের সচেতন করার কাজ শুরু করেন।
করোনা মহামারির সময় ডা. এসআর খান তার কাজকে আরও বিস্তৃত করেন। ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কন্টেন্ট তৈরি করে তিনি লাখো মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায় ৮ লাখ ফলোয়ার এবং ইউটিউবে ৪ লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যে তিনি ভিডিও, নিবন্ধ এবং মেগাজিনে লেখালেখি করছেন।
ডা. এসআর খান বিশ্বাস করেন, যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে ট্যাবু ভাঙা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এমন অনেক দম্পতি আছেন যারা তাদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে ভয় পান। এই সমস্যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনে নয়, বৈবাহিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। আমি চাই, মানুষ সহজেই এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারে এবং সঠিক সেবা গ্রহণ করতে পারে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভরশীল না হয়ে তিনি রোগীদের ব্যায়াম, ডায়েট, কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত ফলোআপের উপরও গুরুত্ব দেন। তার গবেষণা এবং প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি মানুষকে সুস্থ এবং সুখী দাম্পত্য জীবনের স্বপ্ন দেখানো।
ডা. এসআর খান বিশ্বাস করেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো যখন তার রোগীরা যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসেন।
