ফোন ট্র্যাকিংয়ের কয়েক হাজার অ্যাপ প্লে স্টোরে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৪

শরিফুল ইসলাম

 

গুগল প্লে স্টোরের কয়েক হাজার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ অনুমতি না থাকলেও ব্যবহারকারীদের ফোন ট্র্যাক করছে। এ অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফরমের ‘পারমিশন’ সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে ট্র্যাকিংয়ের কাজ করছে। যে কারণে অসংখ্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও অবস্থানগত তথ্য বেহাত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গুগলের জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) অ্যান্ড্রয়েড কিউতে পারমিশন সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের ফোন ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডের এ সংস্করণ এখনো পর্যাপ্তসংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছেনি। খবর দ্য ভার্জ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি, প্রত্যেক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোডের সময় ব্যবহারকারী ঠিক করে দিতে পারেন ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার পাবে কিংবা পাবে না। একজন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারী যখন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন ‘না’, আমার ফোন ট্র্যাক করার অনুমতি তোমার নেই। তার পরও কৌশলে ঐ ব্যবহারকারীর ফোন ট্র্যাক করা উদ্বেগের বিষয়। তৃতীয় পক্ষের এমন কয়েক হাজার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফরমের পারমিশন সিস্টেমের সঙ্গে প্রতারণা করে এ কাজ করছে।

‘প্রাইভেসিকন ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার অপরাধীরা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ফোন ট্র্যাকিংয়ের জন্য সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিটস (এসডিকে) কাজে লাগাচ্ছে। একই এসডিকে ব্যবহার করে একাধিক অ্যাপ উন্নয়নের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফরমের পারমিশন সিস্টেম ফাঁকি দিয়ে ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। এ কৌশলে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীর সব ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্ট এবং অ্যাপ ডেভেলপার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ এবং অপব্যবহারের অভিযোগ বেশ পুরোনো। এর আগে গুগলের বিরুদ্ধে প্রত্যেক অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীর অবস্থানগত কিংবা লোকেশন ডাটা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। বলা হয়, অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফরমের গ্রাহকরা গোপনীয়তা রক্ষায় ডিভাইসের লোকেশন ডাটা ফিচার বন্ধ রাখলেও কৌশলে তাদের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গোপনে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের এ কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের ভুল পথে চালিত করে তাদের তথ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখছে গুগল।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, বৃহত্ প্রযুক্তি জায়ান্ট কিংবা অ্যাপ ডেভেলপার কর্তৃপক্ষের কৌশলে তথ্য সংগ্রহের চর্চা বেশ ভয়ানক। কারণ ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় যে কোনো সতর্কতা অবলম্বন করলেও ডিভাইস ইন্টারনেটে যুক্ত করলে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠাতে থাকে। এটি এমন এক ফিচার, যা গ্রাহককে না জানিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী চাইলেও রেহাই পাবেন না।