চিত্রনায়িকা ২০১৯

এ সময়ে রাজত্ব করছেন যাঁরা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২১:১৩

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক নির্ভরতা চিরকালের। এই প্রবণতা সারাবছরই, এমনকি সারাবিশ্বেই। এর ভেতরে শাকিব খানের একক দাপটে সবসময় শাকিবের নায়িকারাই থাকেন শীর্ষে। তাই যেখানে শাকিব খানের ক্যারিয়ারের বৃহস্পতি সেই নায়িকাও পেয়ে যায় সফলতার ভাগ-বাটোয়ারা। তবে এত নাজুক, এত ভঙ্গুর, আশা-হাতাশা আর ওঠানামার ইন্ডাস্ট্রিতে এখন কোনো নায়িকার হাতে একের অধিক মুভি থাকা মানেই বিরাট কিছু। তারই পর্যালোচনায় এ সময়ে শীর্ষ নায়িকাদের নিয়ে একটি বিশ্লেষণ—

তানভীর তারেক

জয়া আহসান

তিনি সৌভাগ্যবান নাকি সৌভাগ্য তাঁর পিছু ছোটে এ নিয়ে বিস্তর বিশ্লেষণ হয় ইদানিং ঢালিউড-টলিউডে। এ কথাও প্রচলিত যে, জয়া নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আজ যা ভাবছেন অন্যরা তা ভাবেন নাকি আরো ৩ বছর পর। দুই বাংলায় সমানভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজের রুচির মাপে সব নায়িকা সবসময় মুভি পায় না। করতে চাইলেও ব্যাটে-বলে মেলে না। কিন্তু জয়া আহসান এক্ষেত্রেও বৃহস্পতিটা নিজের পকেটে পুড়েই ফিল্মি দুনিয়া কাঁপিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের প্রযোজনায় ‘দেবী’ও দারুণ সফল। ধারাবাহিক প্রযোজনার ঘোষণায় তাঁর বাংলাদেশে নতুন চলচ্চিত্র আসছে ‘ফুড়ুত্’। এছাড়া মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’ ও মুক্তির দোরগোড়ায়। আর টলিউডে তাঁর ধারাবাহিক কার্যক্রম সফল গতিতেই চলছে।

 

ববি

চিত্রনায়িকা হিসেবে সফলতা অনেক আগেই পেয়েছেন। সর্বশেষ নোলক ছবিটিও আলোচিত ও প্রশংসিত। একইসঙ্গে শাকিব-ববি জুটির সফলতার রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। এছাড়াও কোনো নায়ক নির্ভর তারকা তিনি নন। একটু একটু করেই এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজস্ব এক পৃথিবী তৈরি করেছেন তিনি। সামনে আসছে তাঁর অভিনীত বেপরোয়া ছবিটি। এছাড়াও আসছে তাঁর আরো কিছু মুভি।

 

বুবলী

কমার্শিয়াল ছবির এ সময়ের সবচেয়ে সফলতম নায়িকা। শাকিব-অপু বিশ্বাস জুটির পর অন্য কোনো জুটি টিকবে না বলে যেসব কথা হাওয়ায় ভাসছিল, তা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে বুবলী। নাচে, ফাইটে অভিনয়ে এক প্রতিষ্ঠিত নাম এখন বুবলী। তবে বড় পর্দা মাত করিয়ে দেওয়া এই চিত্রনায়িকা নিজের একান্ত পরিশ্রমে আজকের এই শীর্ষ অবস্থানে এলেও তাঁকে বিভিন্ন টকশো বা আলোচনায় প্রায়ই শুনতে হয় ‘শাকিবের কারণেই নাকি তাঁর এই সাফল্য’, কিংবা ‘কবে আপনি শাকিবের বাইরে কাজ করবেন?’ এসব প্রশ্ন বা বিশেষণকে তিনি কিভাবে নেন এটা অবশ্য জানা যায়নি কখনো।

 

মাহিয়া মাহী

মাহীর সবচেয়ে বড় শক্তি কমার্শিয়াল চলচ্চিত্রের দর্শকদের একটা বিরাট অংশ তাঁর ক্রেজি ফ্যান। আর বড়পর্দায় জাজের কল্যাণে নায়িকা কেন্দ্রিক চলচ্চিত্রের কাজ করে সাফল্য পেয়ে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাই নিন্দুকেরা অনেকেই বলেছিলেন যে, জাজ থেকে বেরিয়ে মাহিয়া মাহীর ফিল্মি চাহিদা হয়তো মুখ থুবড়ে পড়বে। মাঝে কিছু অ্যাভারেজ ছবিও করেছেন বটে। কিন্তু জাজ মাল্টিমিডিয়ার যত্নে গড়া এই নায়িকা পুরোপুরি অভিনয়, ড্যান্স, ফাইটে একেবারে ম্যাচিউরড হয়েই আজ ইন্ডাস্ট্রিতে বিরাজমান। তাই তাঁকে হুট করে ফেলে দেওয়া আজ মুশকিল। এ কারণেই অনেক প্রযোজক মাহীকে নিয়ে পিছু কথা বলেন যে, ‘টাকা পয়সার দিক দিয়ে নাকি মাহী কোনোভাবেই কম্প্রোমাইজ করেন না। খুব কাঠখোট্টা। ছবি প্রমোশনেও সময় দেন না।’ কিন্তু এসব কেয়ার না করেই মাহী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারণ তাঁর এতদিনের গড়া আত্মবিশ্বাস। বরং সে জানে তাঁর একটা বলয় তৈরি হয়ে গেছে এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। যে ফ্যানবলয় সহজে তাঁকে এই রেস থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে না।

 

তিশা

এদেশের তরুণ একদল দর্শককে হলে নিয়েছেন মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী। বাংলা ছবি দেখানোর অভ্যেস গড়েছেন ফারুকী। ছবিপাড়ার ব্যাকরণ বদল করে নতুন এক ম্যানিয়াক তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর ছবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দুটোই সমানতালে চলে। তাই এত শক্তিশালী নির্মাতার ঘরেই যখন তিশার মতো মেধাবী অভিনেতা থাকেন তখন তা সোনায় সোহাগা বলতেই হয়। তাই ক্যারিয়ারগ্রাফেও ফারুকী-তিশা যেন একে অপরের পরিপূরক। তবে তিশা শুধু ফারুকীর ছবিই করেন এ রকম একটা নিন্দুকীয় কথা তাঁর নামেও প্রচলিত ছিল। সেই ভ্রান্তিও নিমিষেই তিশা তাঁর অভিনয় জাদুতে বাজিমাত করেছেন। তৌকীর আহমেদ, অনন্য মামুনসহ একাধিক নির্মাতার ভিন্ন ভিন্ন উপস্থাপনার ফিল্মে এখন প্রতিষ্ঠিত নাম তিশা।

 

নুসরাত ফারিয়া

ইন্ডাস্ট্রিতে একমাত্র তিনিই সফলতম নায়িকা, যাঁর আলোচনা-সমালোচনা দুটোই সমানতালে চলে। তবে বরাবরই সেসব কেয়ার না করে নিজের কাজটি করে চলেছেন এই পরিশ্রমী তরুণী। জাজ মাল্টিমিডিয়ার বাইরেও এখন একাধিক ছবি নিয়ে আলোচনায় তিনি। নিজেকে ধীরে ধীরে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় সেই মেধা-অধ্যাবসায় আছে তাঁর।