‘মঞ্চ আমার প্রথম ভালো লাগা’

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ১৪:৫৭

এ কে আজাদ সেতু। সক্রিয় থিয়েটার কর্মী এবং মঞ্চশিল্পী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘ সময় ধরে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টিভি নাটক, সিনেমা, সিরিজ ও ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। অভিনয়জীবনের স্মরণীয় ঘটনা এবং বর্তমান সময়ের ব্যস্ততা নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন শিশির রোয়েদাদ।

অভিনয়ের শুরুটা কীভাবে হলো? কার দ্বারা বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছেন?
এসএসসি পরীক্ষার পর সহপাঠী আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর মাধ্যমে থিয়েটারে প্রবেশ, মিরপুরে লেবেদেফ থিয়েটারে প্রথম কাজ শুরু। পরবর্তী সময়ে সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার (সিএটি)-এ কাজ শুরু ১৯৯৭ সাল থেকে। সিএটিতে কাজ শুরু করার পর থেকেই অনেক মানুষ পেয়েছি, যাদের সান্নিধ্য, প্রশিক্ষণ আজও অনুপ্রাণিত করে।

আর আমার শিক্ষাগুরু, জনাব কামালউদ্দিন নীলু আমার আদর্শ, আমার অনুপ্রেরণা সবসময়ের জন্য। আজ যে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে পেরেছি, এটা সম্পূর্ণ তার এবং সিএটির অবদান। আর পরিবারের সহযোগিতা তো ছিলই।

কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
সব চরিত্রই সমান। আমি মনে করি কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্নে আটকে যাওয়া একজন অভিনেতার জন্য মাইনাস পয়েন্ট। আমার কাছে চরিত্রের গুরুত্বটা বেশি বিবেচ্য, তার উপস্থিতি কতটুকু তার থেকে। অভিনয় করার জায়গা আছে, ভাবনার জায়গা আছে-এমন যেকোনো চরিত্রে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

মঞ্চ, সিনেমা, টিভি নাটক কোন মাধ্যমে কাজ করতে বেশি আগ্রহ?
মঞ্চ আমার প্রথম ভালো লাগা, একটা আলাদা শান্তির জায়গা, নিজেকে গড়ে তোলার জায়গা। যেখানে দর্শককে সরাসরি কমিউনিকেট করতে পারি। নিজের কাজের সরাসরি আউটপুট পাওয়া যায় মঞ্চে। আসলে প্রতিটা মাধ্যমের ভাষা আলাদা। আমি চেষ্টা করি যখন যে মাধ্যমে কাজ করি তখন সেই মাধ্যমের মধ্যেই থাকার, তাদের বোঝার।

শুটিংয়ের কোনো মজাদার গল্প শুনতে চাই।
মেজবাউর রহমান সুমনের নাটক 'সুপারম্যান', এখানে আমি একজন স্টান্টম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এই স্টান্টম্যানকে ঘিরেই মূলগল্প। এর প্রথম শটই ছিল গ্লাস ভেঙে ভেতরে যাওয়ার। সুমন ভাই আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন এটা সত্যিসত্যিই করতে হবে। আমি ভেবেচিন্তেই রাজি হয়ে যাই। শট এর আগে এফডিসির স্টান্টম্যান আমাকে টেকনিকটা বুঝিয়ে দেন। শট-এর আগ পর্যন্ত সেভাবে কিছু চিন্তা করিনি। কিন্তু শট দেবার পর আসলে বুঝতে পারি বড় রিস্ক নিয়েছিলাম। ভাগ্য ভালো যে শটটা একবারেই ওকে হয়ে যায়। কিন্তু কাচ ভাঙার সেই শব্দ এখনো কানে বাজে, আর এই নাটকের প্রশংসা আমি এখনো পাই। এটা আমার অভিনেতা জীবনের একটা বিশেষ স্মৃতি।

'গোর' সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।
নির্মাতা গাজী রাকায়েত পরিচালিত 'গোর' আমার আরেকটি নতুন অভিজ্ঞতা। বাইলিংগুয়াল কাজ অনেক কঠিন, সেখানে পুরো অভিনয়টা একই সাথে দুই ভাষায় করা। এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো আমার জন্য। রাকায়েত ভাই খুব শক্ত ভাবেই চ্যালেঞ্জটা ছুড়ে দিয়েছেন। এটা আমার খুব পছন্দের কাজ। অনেক ভীন্ন রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে এখানে। ব্রিটিশ একসেন্টে সংলাপ বলতে বলতে খেয়েছি, কাজ করেছি। ভাষা নিয়ে মোটামুটি একমাসের প্রসেসে থেকেছি। রাকায়েত ভাই খুব ভালো ভাবে চরিত্রে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। আর তার রেজাল্ট ও আমি পেয়েছি। যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছি কাজটার জন্য। আর আমার শুট ও ১৮ দিনের জায়গায় মাত্র ১২ দিনে শেষ হয়েছে টিম সাপোর্টের জন্য।

বর্তমানের ব্যস্ততা ও কাজের আপডেট কী?
বর্তমানে ভিকি জাহেদ-এর ওয়েব সিরিজ 'চক্র' চলছে আইস্ক্রিনে। খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি কাজটা নিয়ে। সামনে চরকিতে আসছে কাজি আসাদের নির্দেশনায় ওয়েব সিরিজ 'আদর্শ বাংলা হোটেল'। আরো কয়েকটা ওয়েব সিরিজ আর সিনেমার কথা চলছে। এছাড়া পাশাপাশি অডিও বুক ও ভয়েস অ্যাক্টিং-এর কাজে মোটামুটি ভালোই ব্যস্ততা চলছে।

অভিনয়ের দক্ষতা বাড়াতে আপনি কী টেকনিক অবলম্বন করেন?
অভিনয় সম্পূর্ণরূপে একটি চর্চানির্ভর শিল্প। তাই চেষ্টা করি পড়ার এবং দেশি-বিদেশি কাজের সাথে যুক্ত থাকার। আর সব থেকে বড় যে ব্যাপার, সেটা হলো নিজেই নিজের খুঁতগুলো বের করা। আমি প্রশংসার থেকে সমালোচনা শুনতে চাই বেশি। যেটা নিজেকে সঠিকভাবে তৈরি করতে বেশি সাহায্য করে বলে আমি মনে করি।

কাজ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অভিনয় করে যাওয়া, নিজেকে নিয়ে যতটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় সেটা করা। কারণ আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত অভিনেতারা কখনো একটা ফরম্যাটে বা চরিত্রে নিজেকে আটকে রাখেন না।

ইত্তেফাক/এএম