কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা
কালিয়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক না থাকায় রোগী দেখছেন চিকিত্সা সহকারীরা। বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সামাল দিচ্ছেন তাঁরা। এ অবস্থায় উপজেলাবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সাসেবা থেকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০০৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। চিকিত্সকের পদ আছে ২১টি। এর আটটি চিকিত্সা কর্মকর্তা পদের মধ্যে আছেন একজন। ১০টি বিশেষজ্ঞ পদের মধ্যে আছেন শুধু গাইনি বিশেষজ্ঞ। আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) ও ডেন্টাল সার্জন পদও শূন্য।
চিকিত্সা সহকারী মলয় পাল ও কল্পনা পাল এবং কর্মচারী আলমগীর হোসেন ও আশিষ কুমার দাস জানান, এতদিন ছোটো ছোটো অস্ত্রোপচার হচ্ছিল। কিন্তু অ্যানেসথেসিয়ার কাজটি করতেন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। তিনি সম্প্রতি বদলি হওয়ায় অস্ত্রোপচার বন্ধ আছে। এছাড়া অত্যাধুনিক এক্স-রে যন্ত্রটি প্রায় ১০ বছর ধরে বিকল। অপারেটর না থাকায় আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রটিও প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে পড়ে আছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে কালিয়ার সিতারামপুরের বাসিন্দা গোলেজান বিবি বলেন, ডাক্তার দেখাতে এসেছি সকাল ৭টায়। ছেলের বউ নিয়ে এসেছিল, কয়ঘণ্টা বসে অধৈর্য অয়ে সে চলে গেছে। কলেজপাড়ার আখিতোননেছা বলেন, সকাল ৭টায় এসেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত টিকিট কাটতে পারিনি। এভাবে অনেকে সকালে এসেও ডাক্তার দেখাতে পারেননি বলে জানান।
নার্স তত্ত্বাবধায়ক বিদিশা রায় জানান, প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে। সবাইকে বিছানা দেওয়া যায় না। চিকিত্সক না থাকায় সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য অনেক সময় হামলারও শিকার হতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শরীফ সাহাবুবুর রহমান বলেন, একজন মাত্র চিকিত্সা কর্মকর্তা রয়েছেন। এ অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সামাল দেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। এরপর রয়েছে প্রশাসনিক কাজকর্ম, প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন সভায় যোগদান, মামলার সাক্ষ্য দেওয়াসহ নানা কাজ। সমস্যার ব্যাপারে নিয়মিত লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
