খাদ্যগুদামে জায়গার অভাব
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা
কেশবপুর খাদ্যগুদামে জায়গার অভাবে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়াভিযান বন্ধ রয়েছে। দেরিতে বরাদ্দপত্র আসাসহ সময়মতো কৃষি অফিস কৃষকের তালিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দাবি অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
উপজেলায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৪৯৯ টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দপত্র আসলে কৃষি বিভাগ ২ হাজার ৪৮৩ জন কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করে। গত ২৩ মে সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলার শিকারপুর গ্রামের কৃষক দীলিপ রায় বলেন, তিনি চলতি বোরো মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে বিক্রির জন্যে ৯০ মণ ধান রাখলেও তার নামে ৩০০ কেজি ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি ক্ষোভে ধান খাদ্যগুদামে না এনে পানির দরে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে প্রথম দফায় এ উপজেলায় ৪৯৯ টন ধান ও ১৪০০ টন চাল সরকারিভাবে ক্রয় করার বরাদ্দপত্র আসে। দেরিতে বরাদ্দপত্র আসাসহ সময়মতো কৃষি অফিস কৃষকের তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে বলেই ১০ জুলাই পর্যন্ত ১৬০ টন ধান ও ৮০০ টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু গুদামে বর্তমানে জায়গা না থাকায় ধান-চাল ক্রয় অভিযান আপাতত বন্ধ রয়েছে। আমনের পুরোনো চাল এখনো গুদামে রয়ে গেছে। এগুলো সরাতে না পারলে ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলি বলেন, কেশবপুর খাদ্যগুদামের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ২ হাজার টন। এরপরও খাদ্যগুদামে গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৩২০ টন ধান ও ২ হাজার ৫১২.৫২৭ টন চাল মজুত রয়েছে। গুদাম খালি করার জন্য গত ৯ জুন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে। এরপরও নতুন করে ৮৩১ টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দপত্র এসেছে। যার এখনো তালিকাই প্রস্তুত হয়নি।
