মুমিনুল ও ‘ডাকতত্ত্ব’ 

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:১৫

ঘরের মাটিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ধবলধোলাই হয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজে সমতা আনার ম্যাচে তো হেরেছে লজ্জাজনকভাবেই। এরপরে গতকাল ঢাকায় ফিরেছে বাংলাদেশ দল। পাঁচ দিনের ম্যাচ তারা শেষ করেছে তিন দিনে, তার মধ্যে সফরকারীরাই খেলেছে দেড় দিনের বেশি সময়। এ সময় তাদের করা এক ইনিংসের রানের কাছাকাছিও যেতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্তরা। সেটি এক ইনিংস নয়, দুই ইনিংস মিলিয়েও ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। 

এমন হারের ম্যাচে এক ভুলে যাওয়ার মত কীর্তি গড়েছেন মুমিনুল হক সৌরভ। সাদা পোশাকের ফরম্যাটে যৌথভাবে এখন তিনি সর্বোচ্চ 'ডাকের' ইনিংস খেলা ক্রিকেটার। যদিও এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তিনি তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের রেকর্ড বইয়ে অনন্য এক কীর্তিতে নিজের নাম যুক্ত করেছেন। দেশের টেস্ট ফরম্যাটের বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয় মুমিনুলকে। সেই হিসেবে দলের বাকি ব্যাটারদের তুলনায় তার ব্যাটের দিকেই ভিন্ন নজর থাকে সকলের। তবে মুমিনুল বাকিদের মতোই উইকেটে ব্যর্থ থেকেছেন। 

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের মতো চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও মেরেছেন ডাক। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে লাল বলে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সেরা ইনিংস খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসে ২ বলে কোনো রান না করেই ফিরেছেন সাজঘরে। তাতে লজ্জার মাইলফলকে নাম লেখান। তিনি এখন টেস্ট ফরম্যাটে যৌথভাবে দেশের সর্বোচ্চ 'ডাক' মারা ব্যাটার। এতদিন এই লজ্জার রেকর্ড এককভাবে নিজের দখলে রেখেছিলেন দেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি ৬১ ম্যাচের ১১৯ ইনিংসে খেলেছিলেন ১৬টি ডাকের ইনিংস। লজ্জার কীর্তিতে তাকে ছুঁতে মুমিনুলের লেগেছে ৬৭ ম্যাচে ১২৫ ইনিংস। 

গেল বুধবার চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩৮ রানে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল, তৃতীয় দিন সকালে ঐ পরিস্থিতি হয়ে যায় আরও খারাপ। দলীয় স্কোরবোর্ডে আরও ১০ রান যোগ করতে গিয়ে হারায় আরও ৪ উইকেট। তাতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে ৪৮ রান তোলে। তখন বাংলাদেশ নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে ঘরের মাঠে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে। প্রায় তিন বছর আগে মিরপুরে লাল বলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৭ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের বিপক্ষে লজ্জার কীর্তি হয়নি। তাইজুল দশম ব্যাটার হিসেবে নামার পর নবম উইকেটে তার সঙ্গে ১৭২ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। 

মুমিনুল-তাইজুলের এই জুটির মধ্য দিয়ে নতুন এক নজিরও দেখে টেস্ট ক্রিকেট। পাঁচ দিনের ক্রিকেটের এই সংস্করণের ১৪৭ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশই প্রথম দল হিসেবে নবম কিংবা তার পরের উইকেট জুটিতে ১০০+ রান তোলে। এর আগে ৫০ রানের কমে ৮ উইকেট হারানোর পর এমন নজির দেখা যায়নি। ইনিংসে ৪৩তম ওভারে মুমিনুল ব্যক্তিগত ৮২ রানে আউট হওয়ায় ভাঙে ঐ জুটি। শেষ পর্যন্ত দুদিন বাকি রেখেই ইনিংস হার নিয়ে মাঠ ছেড়ে, চট্টগ্রাম ছেড়ে নিজেদের আবাসে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। সামনে আফগানিস্তান সিরিজ হাতছানি দিচ্ছে। সেখানে টাইগার বাহিনীর দৌড় কোথায় গিয়ে থামে, সেটি এখন সময়ের অপেক্ষা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ