টেকনাফে ফের সক্রিয় অপহরণকারী চক্র

এক দিনেই সাত বাংলাদেশি ও তিন রোহিঙ্গা অপহৃত

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:০০

শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই ফের অপহরণকারীচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়গুলোতে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের করাচীপাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে বাংলাদেশি সাত কৃষক ও তিন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে অপহরণকারীচক্র। অপহৃত কৃষকদের পরিচয় জানা গেলেও অপহৃত রোহিঙ্গাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় ১৩৪ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ফিরেছেন মুক্তিপণের বিনিময়ে। শীত শুরুর প্রাক্কালে ফের অপহরণ শুরু হওয়ায় পাহাড়ের আশপাশের জনবসতিগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল অপহৃত বাংলাদেশি কৃষকরা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের করাচীপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে আবু বক্কর ও একই গ্রামের নুর আলমের ছেলে মো. আলম, বাঁচা মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন, জলিল আহমেদের ছেলে বেলাল উদ্দিন, নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আনোয়ার ইসলাম, নজর আলীর ছেলে নুর হোসেন ও আজিজুর রহমানের ছেলে গুরা পুতিয়া।

অপহূত বাকি তিন রোহিঙ্গা উনচিপ্রাং ২২ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেলেও নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৯টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের করাচীপাড়া গ্রামের পশ্চিমে পাহাড়ঘেরা ‘আবুবকর ঘোনায়’ চাষাবাদের কাজ ও লাকড়ি সংগ্রহকালে উল্লিখিত ১০ জনকে ধরে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা।

অপহৃত বেলালের মা রাশেদা বেগম আহাজারি করে বলেন, আমার ছেলে অন্যদের সঙ্গে পাহাড়ের পাশের খেতে কাজ করতে গিয়েছিল। ওরা আমার ছেলেকে ধরে পাহাড়ে নিয়ে গেছে।

অপহৃত আনোয়ারের ভাই ছৈয়দ কামাল বলেন, ‘সন্ধ্যায় অপহৃতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। আমরা হতদরিদ্র মানুষ, এতটাকা কোথায় পাব?’

সূত্র মতে, গত শুষ্ক মৌসুমে কৃষক, শিক্ষার্থী, টমটম ও সিএনজি অটোরিকশাচালক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মিলিয়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩৪ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। এদের অন্তত ৬৭ জন মুক্তিপণে ছাড়া পান বলে ভুক্তভোগীদের পরিবার দাবি করেছে। মুক্তিপণ না দেওয়ায় ছয় জন খুনের শিকার হন। বাকিরা কীভাবে পালিয়ে আসেন তার বিস্তারিত জানা যায়নি। 

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, পাহাড়ে কে কোথায় কী আস্তানা করেছে এসব বন বিভাগের জানার কথা। বন বিভাগের উচিত আইনশৃঙ্খলা সভায় এসব বিষয় জানানো। শুধু ঘটনা ঘটলেই কথা ওঠে, অপহৃতরা ফিরে আসার পর আর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এ কারণে অপহরণ বাড়ছে। যৌথ বাহিনীর বিশেষ সেল গঠন করে পাহাড়ে কার্যকর অভিযান চালালে এসব হয়তো বন্ধ হতো।

গতকাল ১০ জন অপহরণের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, অপহরণের খবর শুনে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ বা অন্য কোনো তরফে জানা যায়নি। 

ইত্তেফাক/এমএএম