একই পরিবারের ১২ বাক প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন, চান সহযোগিতা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৪:০০

বিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর এক বাড়িতে ১২ বোবার সন্ধান মিলেছে। দেড়যুগ আগে ঐ বাড়িতে বাক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৬ জন থাকলেও এখন বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের মানবেতর জীবন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, জিনগত ও বংশগত কারণে তারা এই প্রতিবন্ধীতায় পড়েছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেঁষা বগড়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী। সেখানে এক বাড়িতে বসবাস করেন, ভাই অনিল চন্দ্র সরকার ও বোন সুনতী বালা। বংশগত ভাবে তাদের পরিবারে জন্ম নেওয়াদের বেশির ভাগ বাক-প্রতিবন্ধী। ঐ পরিবারের বিভিন্ন বয়সের ১২ জন বাক প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তারা কেউ কথা বলতে পারেন না। সামান্য জমির ফসল দিয়ে চলেনা সংসার। ৪ জন অন্যের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করলেও কথা শুনতে না পারায় এবং কাজের ধরণ বুঝতে না পারায় সচরাচর তাদের কাজও মিলছে না। একারণে প্রতিবন্ধী ভাতার সীমিত টাকার উপর নির্ভর করে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছে ঐ পরিবারটি। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মানবতার কাজে নিয়োজিতদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। 

জানা যায়,অনিল চন্দ্র সরকারের পরিবারে তিনি নিজে, ২ মেয়ে ১ ছেলে ও তাদের ৪ সন্তানসহ ৮ জন বাক প্রতিবন্ধী । তারা হলেন- অনিল চন্দ্র সরকার (৬০),মেয়ে সোহাগী রায় (৩২) ও তপতী (২২), ছেলে অনিল (৩৫), বাক প্রতিবন্ধী সোহাগী রায়ের স্বামী ফটেন রায় সংসার ফেলে পালিয়ে গেছে ১ যুগেরও বেশী সময় আগে। তাদের পুত্র সন্দীপ রায় (১৮) ও কন্যা ইতি রায় (১২) দুজনই বাক প্রতিবন্ধী। বাক প্রতিবন্ধী অনিলের ২ ছেলে আপন (৮) ও পরন (৫) তারাও বাক প্রতিবন্ধী ।

অনিল চন্দ্র সরকারের বোন সুনতী বালা (৭০), তার ছেলে নেপাল সরকার (৪৫), নেপালের ২ ছেলে প্রদীপ (১৮), চন্দন (১৬) বাক প্রতিবন্ধী। আবার এদের মধ্যে প্রদীপ বাক প্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী।

সর্বপ্রথম ঐ পরিবারের ৬ জন বোবা’র সংবাদ প্রায় দেড়যুগ আগে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হলে তখন এক ব্যক্তি অনিল চন্দ্রকে ২০ হাজার টাকা এবং সুনতি বালাকে গাভী কিনে দিয়েছিলেন। এখন ঐ পরিবারে বাক প্রতিবন্ধী সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। এক বাড়িতে এতো সংখ্যক বোবা নিয়ে পরিবার পড়েছে বিপাকে।

সংশ্লিষ্ট ৫নং বিনাইল ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বাদশা বলেন, এক বাড়িতে ১২ জন বাক প্রতিবন্ধী থাকার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বোবাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বলেন, ১২ জনের মধ্যে ১০ জন ভাতাভোগী, বাকি ২ জনকেও ভাতার আওতায় নেয়া হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রদীপকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হুইল চেয়ার দেয়া হবে। 

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম বলেন, বিষয়টি সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে অসহায় পরিবারকে সহযোগিতার প্রচেষ্টা থাকবে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও হেড নেক সার্জন ডা. হাশিম রেজা রক্তিম বলেন, জিনগত (জেনেটিক) ও বংশগত কারণে এই প্রিলিংগোয়াল ডেকনেস রোগের সৃষ্টি হতে পারে। অপারেশনের মাধ্যমে কানে শোনার ব্যবস্থা করা গেলে তারাও কথা বলতে পারবে, তবে তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। 

এছাড়াও ঐ পরিবারের গর্ভবতী মায়েদের রুবেলা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় টিকা প্রদান এবং শিশু জন্মের ৫ বছরের মধ্যে ঢাকার বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে (বিনামূল্যে) চিকিৎসা করালে এ জটিলতা থেকে পরিত্রাণ মিলবে বলে জানান ডা. হাশিম রেজা।

ইত্তেফাক/এএইচপি