মোবাইল ফোনে বান্ধবীর সঙ্গে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং গ্রুপের হাতে খুন হয়েছে নবম শ্রেণির ছাত্র শুভ আহমেদ (১৬)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে কিশোর গ্যাং গ্রুপের চার সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। র্যাব-১ এর টিম বৃহস্পতিবার তাদেরকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই নিহত শুভর সহপাঠী। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: টঙ্গীর পাগাড় এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মৃদুুল হাসান পাপ্পু ওরফে পাপ্পু খান, ফকির মার্কেট এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে সাব্বির আহমেদ, একই এলাকার নূরুল ইসলাম খোকনের ছেলে রাব্বু হোসেন রিয়াদ এবং আলতাফউদ্দিনের ছেলে নূর মোহাম্মদ রনি।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম জানান, গ্রেফতারকৃতরা সবাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনা সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, আসামি পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুভকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার একদিন আগে গত ৬ জুলাই তারা স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় জাদুঘরে যায়। শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে পাপ্পু ও তার বান্ধবী একই সিটে বসলে শুভ মোবাইল ফোনে তাদের ছবি তোলে এবং অন্য সবাইকে দেখিয়ে ঠাট্টা করতে থাকে। আকস্মিক ছবি তোলাতে পাপ্পু ভিকটিমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। এই ঘটনায় পাপ্পু, সাব্বির, রাব্বু ও রনি ঠাট্টা-অপমানের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। পরিকল্পনা মতো ঘটনার দিন রাত ১০টার পর শুভকে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে শুভকে মারধর করার সময় সাব্বির ও রাব্বুর কাছে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে ভিকটিমের বুকে ও পিঠে আঘাত করা হয়। পরে রনি সাব্বিরের কাছট থেকে চাকু নিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করে। এ সময় ভিকটিম (শুভ) দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলে পাপ্পু তাকে পিছন থেকে ধাওয়া করে পিঠে আঘাত করলে সে (শুভ) মাটিতে পড়ে যায়। এরপরই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে তারা শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। উল্লেখ্য, নিহত শুভ বিসিকের একটি স্কুলের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৭ জুলাই রাতে টঙ্গী বিসিকের শাখা রাস্তায় শুভকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রাজু মিয়া টঙ্গী থানায় পাপ্পুসহ পাঁচ/ছয় জনকে আসামি করে মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ইত্তেফাক/কেকে

