মাইকিং করে মুরগি বিক্রি

কালাইয়ে দিশেহারা পোল্ট্রি খামারিরা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫১

কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

দেশে মুরগি পালনের শীর্ষে থাকলেও কালাইয়ে গত তিন সপ্তাহ থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে মুরগির দাম অস্বাভাবিক হারে কমেছে। এর ফলে উপজেলার মুরগি খামারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মাইকিং করে বিক্রি করছেন পোল্ট্রি মুরগি। উপজেলার প্রতিটি বাজারে কম দামে ঐসব পোল্ট্রি মুরগি বিক্রির জন্য মাইকিং করা হলেও ক্রেতাদের সাড়া না পাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে খুচরা বিক্রেতারা। ফলে অনেক পোল্ট্রি খামারি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা মুরগির বাজারে ধস নেমেছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে কম দাম হওয়ায় মাইকিং করে মুরগি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। বর্তমান পাইকারি মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭৫ টাকা দরে। বর্তমান মুরগির দাম কম হওয়ায় উপজেলার শত শত পোল্ট্রি খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে এই উপজেলাতে প্রায় ৪শ’ পোল্ট্রি মুরগি খামার বন্ধ হয়েছে। আগামীতে আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার বিয়ালা গ্রামের মুরগি খামারি মো. তুহিন, মাত্রাই সোনার পাড়া সুজাউল সোনার, মোলামগাড়ী গ্রামের পার্থ হোসেন ও পুনট গ্রামের আনিছুর রহমান, লিয়াকত হোসেন জানান, ব্রয়লার জাতের এক কেজি ওজনের মুরগি উত্পাদন করতে সব মিলে খরচ হয়েছে প্রায় ১শ’ টাকা। আর তা বর্তমানে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৭৫ টাকায়। এরপরও লোকসান করে আমাদের মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে প্রতি কেজিতে লোকসান গুণতে হচ্ছে প্রায় ২৫ টাকা।

কালাই পৌরসভার দৈনিক কাঁচাবাজারে মুরগি খুচরা বিক্রেতা তানভির হোসেন ও আব্দুল জোব্বার বলেন, গত তিন সপ্তাহ থেকে অস্বাভাবিকহারে পোল্ট্রি মুরগির দাম কমেছে। বর্তমান পাইকারি বাজারে মুরগির দাম আরও কমে গেছে। খামারিরা মুরগি বিক্রি করতে না পেরে আমাদের জোর করে মুরগি দিয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মাইকিং করে মুরগি বিক্রি করছি। বর্তমান বাজারে ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে। আর এক থেকে ২ কেজি ওজনের বিক্রি করছি ৮৫ থেকে ৮৮ টাকা কেজি দরে। এরপর মাইকিং করা হলেও ক্রেতাদের সাড়া না পাওয়ায় আমাদের বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। 

মাইকিং করে মুরগি বিক্রির কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো.মোশারফ হোসেন কবিরাজ বলেন, এই উপজেলায় নিবন্ধিত ১৩৭টি মুরগির খামার ছাড়াও ছোট-বড় আরও প্রায় ৬শ’ খামার রয়েছে। মুরগির দাম কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিভিন্ন জাতের মাছের আমদানি রয়েছে। আর এই কারণেই মুরগি ক্রেতার সমাগম কমে গেছে। সবমিলেই খামারিরা মুরগি বিক্রি করে বর্তমানে লোকসান গুণছেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে এক সময় পোল্ট্রি শিল্প বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।