দিমজুর থেকে দক্ষ মেশিন চালক

রাইস মিলের পাঁচ ধরনের মেশিন চালান নার্গিস

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৩৫

বাড়িতে স্বামী শয্যাশায়ী। শাশুড়ি বয়সের ভারে অসুস্থ। পিঠাপিঠি ভাইবোন। পরিবারের সাত সদস্যের খাবারের যোগার করতে হয় নার্গিসকে। আগে এ বাড়ি-ও বাড়ি কাজ করতেন। বহুদিন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কেটেছে কাজ না পেয়ে। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় একটি রাইস মিলে দিনমজুর খাটতে শুরু করেন। এখন তিনি ঐ রাইস মিলের পাঁচ ধরনের মেশিন একা হাতে সামলান। 

নার্গিসের স্বামীর নাম নজরুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলাতে বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে তার বাড়ি।

মিল মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিন বছর হয়েছে রাইস মিল স্থাপন করার। শুরুর দিকে ইয়াসিন নামে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি মিলের মেশিন চালাতেন। নার্গিস দিন মজুরের কাজ করতে-করতে চার মাসে রাইস মিলের মেশিন চালানো শিখে নেয়। সে খুব সহজ-সরল। কিন্তু তার ছিল অদম্য ইচ্ছে। সে রাইস মিলের পাঁচটি মেশিনে মানুষ ও পশুর নয় ধরনের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারেন।

বিনসাড়া গ্রামের ইয়াসিন বলেন, নার্গিস আমার নিকটতম প্রতিবেশী। তার খুব অভাব-অনটনের সংসার। একদিন কাজ না করলে পেটের ভাত জোটেনা। প্রতিদিন কাজও পায়না। আমি মাঠে-ঘাটে সব কাজ করতে পারি। এজন্য আমার রাইস মিলের মাসিক চাকরিটা তাকে দিয়েছি। সে শুধু মেশিন চালানো নয়, মেশিনের খুঁটিনাটি সব সমস্যা ঠিক করতে পারে।

এদিকে নার্গিস দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, রাইস মিলে দুইশ টাকায় দিন মজুরের কাজ করতাম। মেশিন চালিয়ে মাসে নয় হাজার টাকা পাই। এ টাকাতে বেশ কষ্টের ভরণপোষণ আমাদের। স্বামী অসুস্থতাজনিত কারণে কোনো কাজ করতে পারেনা। শাশুড়ির যথেষ্ট বয়স হয়েছে। বড় ছেলে নাঈমের বয়স ১৫ চলছে। অন্য দুই ছেলে ও এক মেয়ে আরও ছোট।

নার্গিসের স্বপ্ন নিজ বাড়িতে ধান ভাঙানো মেশিন বসানো। একটি মেশিনে শুধু ধান ভাঙলেও সংসারের অভাব কেটে যেত বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজিপুর গ্রামের কাজিপুর সড়কের পাশে সরকার রাইস মিলে মেশিন চালাচ্ছেন নার্গিস। মিলের মেশিনের চাকায় ফিতা তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে সব তিনি নিজেই করছেন। সরষে ভাঙানোর পর আরেক মেশিনে চাল ঢেলে দিচ্ছেন চালের আটা করার জন্য। তারপর আরেক মেশিনে মাছের খাদ্য প্রস্তুত করছেন।

কাজিপুর গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ধান, ধানের চিটা ও ভুট্টা  দিয়ে মাছের খাদ্য প্রস্তুত করে নিলাম। নার্গিস একজন ভালো মেশিন চালক। খুব ভালো করে সব খাবার প্রস্তুত করে দেয়।

এ গ্রামের মনোয়ার খাতুন নামে একজন গৃহিণী বলেন, আমার স্বামী ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। আমি চাল থেকে আটা করে নিলাম।

সমাজ সংগঠক মামুন বিশ্বাস বলেন, নিজেদের অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ালে নার্গিসের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। বিশেষ করে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত নার্গিসের পরিবারটির মুক্তি মিলত।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. খাদিজা নাসরিন বলেন, নার্গিসের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তার জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি