বাকস্বাধীনতা এবং সাইবার নিরাপত্তার ভারসাম্য: বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা আইন

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ২০:৫৬

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে ডিজিটালাইজেশনের প্রসার বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাইবার নিরাপত্তা। বর্ধীয়মান ডিজিটাল হুমকি মোকাবেলায় নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ প্রণীত হলেও পরবর্তীতে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আইনটির প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপরও অনুভূত সীমাবদ্ধতার জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে আইনটিকে। বর্তমান সরকার তাই এই আইন বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

তবে সাইবার দুনিয়ায় সুরক্ষিত থাকার জন্য আইন থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। তাই অতি দ্রুত নতুন আইন তৈরি করতে হবে অথবা বর্তমানে যে আইনটি রয়েছে, তা’র প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে, যাতে সাইবার নিরাপত্তা রক্ষা এবং একই সাথে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে মাথায় রেখে সাইবার নিরাপত্তা আইনকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন, যেখানে অপরাধসমূহের সংজ্ঞা স্পষ্টীকরণ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা যায়, সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত হয় এবং আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা আনা যায়।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৩ সম্পর্কে প্রাথমিক উদ্বেগসমূহের মধ্যে একটি হলো এর অস্পষ্ট শব্দাবলী ও পরিভাষা। সমালোচকদের মতে এই অস্পষ্টতার কারণে এসব শব্দাবলীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, যা বাক স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। এধরণের ব্যাখ্যা সাংবাদিক এবং ভিন্নমত প্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনটির অপব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করে।

মৌখিক বক্তব্য সংলগ্ন শব্দগুলির জন্য আইনটিতে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ‘আপত্তিকর বিষয়বস্তু’ শব্দমালাটি সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন। যে সকল কথা সরাসরি সহিংসতাকে প্ররোচিত করে অথবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে বা গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করে, কেবলমাত্র সেগুলোকেই এই সংজ্ঞার মাধ্যমে নির্ধারিত করা উচিত। একইভাবে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার’-কে এমনভাবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন যাতে সরকারী নীতির সমালোচনা এর আওতায় না পরে। কারণ ভিন্নমত পোষণ গণতন্ত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই শব্দাবলী পুনঃসংজ্ঞায়িত ও পরিমার্জন করে আইনটিতে সংশোধনী আনা দরকার, যাতে সাংবাদিকদের সাইবার নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখে বাকস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা যায়। 

সাংবাদিক এবং মিডিয়া সংস্থাগুলি প্রায়শই সরকারী সিদ্ধান্ত বা নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ করে জনসাধারণকে অবহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে থাকা কতিপয় বিধান অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত বা সীমিত করতে পারে। কোন সংবেদনশীল বা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে যখন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন করে, তখন এই আইনের কারণে তাদের সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এই উদ্বেগের ফলে অনেক সময়ে সাংবাদিকরা আইনি জটিলতা এড়াতে সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন না। ফলে তথ্যের মুক্ত প্রবাহ বাধার মুখে পড়ে। 

সাংবাদিক এবং স্বীকৃত গণমাধ্যমকে নিগ্রহের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আইনটিতে একটি ব্যতিক্রম রাখা প্রয়োজন যা কিনা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিবে। কোন বিষয়কে আপাতদৃষ্টিতে সরকারী নীতির বিরোধিতা মনে হলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা’ প্রকাশ করা জরুরী হতে পারে। যে সকল সংবেদনশীল বিষয় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সে সকল বিষয় নিয়ে খোলাখুলি রিপোর্ট করার অনুমতি সাংবাদিকদেরকে নিশ্চিত করতে হবে এই সংশোধনীর মাধ্যমে। 

আত্মসংযম বা বিষয়বস্তুর সংযমন সাইবার নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; কিন্তু এটির অত্যধিক ব্যবহারে বাকস্বাধীনতাও লঙ্ঘন হতে পারে। বিষয়বস্তুর সংযমন নীতিগুলি তত্ত্বাবধানের জন্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, পেশাদার আইনজীবী, এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটি নির্ধারিত বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করবে যে মডারেশনের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ হয়েছে এবং তা’ বাকস্বাধীনতা বজায় রেখেছে।

অনলাইনের কোন বিষয়বস্তু অপসারণের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা প্রয়োজন। অনলাইন কন্টেন্ট সেন্সর বা অপসারণের নীতিগুলি স্বচ্ছ হওয়া উচিত। বিষয়বস্তু অপসারণ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য একটি স্পষ্ট আপিল প্রক্রিয়াও থাকতে হবে।

নানান দেশে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক যে আইনগুলি রয়েছে, সেগুলির সবচেয়ে বড় সমালোচনার কারণ হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্বারা এই আইনসমূহের অপব্যবহারের সম্ভাবনা। বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৩-এ সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিচারিক তদারকির অনুপস্থিতি লক্ষণীয়, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। এ আইনে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ছাড়াই শুধুমাত্র তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে যা ব্যক্তি-স্বাধীনতায় ঝুঁকি সৃষ্টি করে। 

সাইবার নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কোন ব্যক্তিকে তদন্ত বা গ্রেপ্তার করার আগে বিচার বিভাগীয় অনুমোদনের বিধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন সংশোধিত আইনে। এই সংশোধনীতে একটি "ওয়ারেন্ট ক্লজ" যুক্ত করা যেতে পারে, অর্থাৎ জরুরি নয় এমন যে কোনো সাইবার নিরাপত্তাজনিত অপরাধের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবশ্যই একটি বিচার বিভাগীয় ওয়ারেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগের এ ধরণের তত্ত্বাবধান শুধুমাত্র নাগরিকের অধিকারই রক্ষা করে না, বরং ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহারও হ্রাস করে একটি ন্যায্য এবং আইনানুগ পদ্ধতির প্রয়োগ নিশ্চিত করে।

বর্তমানে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৩-এর অধীনে লঘু পাপে গুরু দণ্ডের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত ছোট অপরাধের জন্যও গুরুতর শাস্তি হতে পারে। এই ধরনের কঠোর শাস্তির বিধান বাকস্বাধীনতার উপর ভীতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে মামলার ভয়ে মানুষ অনলাইনে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এই আইনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই বিনা বিচারে যথেচ্ছ আটকের অনুমতি দেওয়ার বিধানগুলি ব্যক্তি-স্বাধীনতা খর্ব করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যহত করে। 

সকল অপরাধের জন্য শাস্তি আনুপাতিক হওয়া উচিত। ছোটখাটো অপরাধের জন্য গুরুতর শাস্তির পরিবর্তে সতর্কীকরণ বা জরিমানার মতো বিকল্প বিধান রাখা যেতে পারে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই কোন ব্যক্তিকে আটক রাখার ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেয়া প্রয়োজন আইনটিতে। বিনা বিচারে লম্বা সময়ের জন্য আটক রাখার ব্যবস্থাও দূর করতে হবে সংশোধিত আইনে। 

কোন একক কর্তৃপক্ষের কাছে সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় শাস্তির প্রদানের ক্ষমতা দেয়া থাকলে তা’ কখনও কখনও পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। একক ক্ষমতার ফলে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতাও হ্রাস পেতে পারে। এর ফলশ্রুতিতে আইনের অপব্যবহারের অভিযোগসমূহ কর্তৃপক্ষ সহজেই খারিজ করে দিতে পারে। এতে আইন ও সরকারের উপর জনসাধারণের অবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত তত্ত্বাবধানের জন্য একটি স্বাধীন তদারকি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার একটি স্তর যুক্ত হবে। এই সংস্থাটি অভিযুক্তদের মামলাগুলি তদন্ত করবে, আইন অপব্যবহারের অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকলাপ আইনের পরিধির মধ্যে থেকে পর্যবেক্ষণ করবে। এই ধরনের একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা এবং ভারসাম্য প্রদান করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, তদন্তগুলি আইনগতভাবে কোনরকম পক্ষপাত ছাড়া সম্পন্ন হচ্ছে।
তথ্যের গোপনীয়তা সাইবার নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া স্বত্বেও সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এ নাগরিকের ডেটা সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে তেমন কোন নির্দেশিকা নেই। আস্থা ও নিরাপত্তা বাড়াতে, আইনটিতে ডেটা গোপনীয়তার জন্য রূপরেখা ও স্পষ্ট নির্দেশনা রাখতে হবে। সরকারী এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি কীভাবে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং বিনিময় করতে পারে তা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য যাতে দায়িত্বশীলতার সাথে পরিচালনা করা হয়, সেজন্য সংশোধিত আইনটিতে ডেটা গোপনীয়তা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এই ধারাতে ব্যবহারকারীর সম্মতি, ডেটা সংরক্ষণ করার সময়সীমা এবং ডেটা লঙ্ঘন বা চুরির শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকা দরকার। উপরন্তু, অননুমোদিত ডেটা শেয়ারিং বা অপব্যবহারের জন্য জরিমানাও নির্দিষ্ট করে দেয়া উচিত। তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা জোরদার করলে জনগণ যেমন আশ্বস্ত হবে, আইনটি আন্তর্জাতিক মানেরও অনুবর্তী হবে। 

সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে হলে এটিতে স্বচ্ছতা আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মামলা সংক্রান্ত তথ্য বা প্রমাণ চাওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। উপরন্তু, সাইবার নিরাপত্তা মামলার অধীনে অভিযোগের বিরুদ্ধে আপীলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সীমিত হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অনেক সময়ই অসহায় বোধ করেন।

নতুন বা সংশোধিত আইনের অধীনে অভিযোগে ব্যবহৃত প্রমাণসমূহ সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ তথ্য জানার অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। উপরন্তু একটি স্বাধীন সংস্থা বা উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আপিল করার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। এই আপিল প্রক্রিয়ার স্পষ্ট সংজ্ঞা ও বিবরণ আইনটির স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার ন্যায্য সুযোগ প্রদান করবে।

সর্বসাধারণের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার লিটারেসি প্রোগ্রাম চালু করে অনলাইন শিষ্টাচার এবং ডিজিটাল অধিকারের উপর পাঠদান করতে হবে। সম্প্রচার মাধ্যমগুলিতে এ ধরণের জনসচেতনতামূলক প্রচারণা দায়িত্বশীল ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে উঠতে সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক দেশ সাইবার নিরাপত্তা এবং বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন General Data Protection Regulation (GDPR) এবং ডিজিটাল পরিষেবা আইন-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেটা গোপনীয়তা এবং বিষয়বস্তু সংযমনের স্বচ্ছতার জন্য কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যাপারে এসব দেশকে মডেল হিসাবে নেয়া যেতে পারে। 

ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে চলছে বর্তমানের বাংলাদেশ। একটি নিরাপদ এবং টেকসই সাইবার পরিবেশ এই চলার পথকে সুগম করতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর প্রধান লক্ষ্য সাইবার হুমকি থেকে জাতিকে রক্ষা করা। বর্তমান অবস্থায় আইনটির অনেকাংশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্শিক। তাই নাগরিকের বাকস্বাধীনতা রক্ষা এবং এর অপব্যবহারের রোধ করার জন্য এর সংশোধন অত্যাবশ্যক। 

সাইবার নিরাপত্তার সাথে সমঝোতা না করে বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ নয়। তবে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, বিচার বিভাগীয় তদারকি, সাংবাদিকদের সুরক্ষা, আনুপাতিক শাস্তি এবং ডেটা গোপনীয়তা বিষয়ক সংশোধনগুলি নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করার সাথে সাথে সাইবার নিরাপত্তা আইনকে আরও কার্যকর করতে পারে। এই প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার মধ্যেকার ব্যবধান হ্রাস করে এমন একটি ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম, যেখানে নাগরিকরা তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করতে নিরাপদ বোধ করবে।

লেখক: উদ্যোক্তা, পলিসি অ্যাডভোকেট ও আইটি পরামর্শক।

ইত্তেফাক/টিএইচ