ভাণ্ডারিয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ

চলাচল সাত মাস ধরে বন্ধ দুর্ভোগে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:০০

নাব্যসংকটে প্রায় সাত মাস ধরে ভাণ্ডারিয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ট্রাক, পিকআপ, কুরিয়ারে মালামাল আনা-নেওয়া করছেন। এতে খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। অন্যদিকে যারা লঞ্চে যাতায়াত করতে অভ্যস্ত তারাও পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যা সমাধান করে লঞ্চ চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, অনেক আগে থেকেই রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ জনপদের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন ছিল লঞ্চ। তখন প্যাডেলচালিত স্টিমার এবং কাঠবডির ছিল লঞ্চ। খুলনা, মোরেলগঞ্জ, চরখালী, ভাণ্ডারিয়া, হুলারহাট, কাউখালী, গাবখান চ্যানেল হয়ে বরিশাল ভায়া চাঁদপুর হয়ে ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চ নোঙর করত। 

১৯৮০ সালের দিকে ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কঁচা নদীর তীরবর্তী পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন কোম্পানির ১১টি লঞ্চ রোটেশনে চলাচল শুরু করে।  এর মধ্যে প্রতিদিন দুই-তিনটি লঞ্চ ভাণ্ডারিয়ায় আসত। ঐ সময় ব্যবসায়ীরা কম খরচে মালামাল পরিবহন করতে পারত। সাধারণ যাত্রীরাও কম খরচে যাতায়াত করতে পারত। বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানান, লঞ্চ চলাচল করলে পরিবহন খরচ কম পড়ায় আমরা অল্প দামে পণ্য বিক্রি করতে পারি। এখন পিকআপ, ট্রাক বা কুরিয়ার সার্ভিসে মালামাল পরিবহন করতে খরচ বেশি পড়ে। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

আগে ভাণ্ডারিয়া ঘাট থেকে আমুয়া, কাঠালিয়া, বামনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ী, সাধারণ যাত্রীরা দিনের কাজকর্ম সেরে বিকালে ভাণ্ডারিয়া ঘাট থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় যেত। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে কোনো কোনো দিন চার-পাঁচটি লঞ্চে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি চাকরিজীবীরা পরিবারের সাথে বিশেষ ছুটির দিন কাটাতে পারত। এখন লঞ্চ বন্ধ থাকায় যোগাযোগও অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

লঞ্চ বন্ধের কারণ সর্ম্পকে ভাণ্ডারিয়া লঞ্চঘাট ইজারাদার মো. সাহজাহান সরদার জানান, আগে যে রুট দিয়ে লঞ্চ চলত সে রুটে বর্তমানে ডুবোচর পড়ায় শীতের মৌসুমে লঞ্চ আটকে পড়ে। যার ফলে কর্তৃপক্ষ লঞ্চ বন্ধ রেখেছে। রোটেশন প্রথা পরিবর্তনের জন্য মেসার্স আগরপুর নেভিগেশন, মেসার্স যুবরাজ রিভার সার্ভিস ও মেসার্স ডলার নেভিগেশন কোম্পানি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রোটেশন প্রথা পরিবর্তন করে তাহলে পূর্বের ন্যায় লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। তা হলে যুবরাজ-৭, এমভি নিউসান এবং টিপু-১২, এ তিনটি লঞ্চ প্রতিদিন চলাচল শুরু করবে।

ইত্তেফাক/এমএএম