আসল ঘটনা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৮

 

হামীম রায়হান

 

কবিতায় তাঁর ধ্যানজ্ঞান। সারাদিন কবিতার লাইনই তাঁর মাথায় ঘোরাঘুরি করে। কবিতার লাইন ছাড়া আর কিছু তাঁর মাথায় ঢুকে না। কবিতা ছাড়া এ জগত্ তাঁর কাছে অর্থহীন। এলাকায়ও কবি বলে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন কবি জামাল। সবাই তাঁর কবিতা শুনে বেশ প্রশংসা করে। মাথায় লম্বা চুল, মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ। কাঁধে ঝুলানো পাটের ব্যাগ, লম্বা পাঞ্জাবি। দেখলেই বুঝা যায় তিনি কবিতার লোক। যেখানেই যান কবিতার কথাই তাঁর মুখে থাকে। মাঝে মাঝে শহরে গিয়ে বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় গিয়ে আসর গরম করে আসেন। এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে তলব করা হয় কবিতা পাঠের জন্য।

এত সম্মানের মাঝেও কবি জামালের মনে শান্তি নাই। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কবি ভয়ে থাকেন। কখন কুকুরের সামনে পড়েন। কুকুর সামনে পড়লেই কবির পা কাঁপতে থাকে। পাড়ার কুকুররাও কবিকে দেখে ঘেউ ঘেউ শুরু করে। তেড়ে আসতে চাই। কবি না পারেন হাঁটতে, না পারেন দৌড়াতে। কেন যে কুকুরগুলো এমন করে তা কবি কোনোভাবেই বুঝতে পারেন না।

এক সকালের কথা, কবি যাচ্ছেন দোকানে চা পানে। নির্জন পথ, ভালোই লাগছিল। হঠাত্ কোথা থেকে একটা ভয়ংকরদর্শী কুকুর এসে উপস্থিত! কবি এদিক ওদিক তাকান। কোথাও কোনো ঘরবাড়ি নাই। বাঁচার উপায় আর না! এবার বুঝি চৌদ্দটা ইনজেকশনের নিচে যেতেই হবে! কুকুরটা গড়গড় করতে লাগল। ‘বাঁচতে হবে’ বলে কবি দিলেন দৌড়! কবি দৌড়ান, কুকুরও দৌড়ায়। সামনে পড়ল একটা পুকুর। কবি কুকুর থেকে বাঁচতে দিলেন পুকুরে লাফ! এ যাত্রায় কোনোভাবে বাঁচলেন কবি।

এর কিছুদিন পর কবি জামাল বসে আছেন একটা দোকানে। এলাকায় কোথা থেকে এক পাগল উপস্থিত। দোকানের সামনে পাগলটা দাঁড়িয়ে। হঠাত্ একটা কুকুর এসে ঘেউ ঘেউ শুরু করে। কবি ভাবলেন হয়ত তাকে দোকানে দেখেই কুকুরটা এমন করছে। এরপর কবি বুঝতে পারলেন, না কুকুরটা পাগলটাকে দেখেই ঘেউ ঘেউ করছে। এবার কবি বুঝতে পারলেন আসল ঘটনা!