‘সবই ছিল মিথ্যা মামলা’ 

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১৬:০৭

নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে অপরাধের মালা সাজিয়ে ক্রীড়াঙ্গন থেকে বহু সংগঠককে সরিয়ে দেওয়ার গোপন রেওয়াজ প্রচলিত ছিল গত দেড়যুগে। ক্রীড়াঙ্গনে যারা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছিলেন তাদেরকে পথের কাঁটা মনে করতেন কিছু ক্রীড়াজীবী। পথ থেকে সরিয়ে দিতে অভিযোগ এনে হয়রানি করা হতো, মামলা মোকদ্দমা দেওয়া হতো। বিএনপির রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে গত দেড়যুগে অনেক দক্ষ সংগঠক বিতাড়িত হন। 

বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দোষে দোষী বানানোর ফাঁদে যারা পড়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভুক্তভোগী মোহামেডানের লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। নীরবে ক্লাব সংগঠন করতেন তিনি। দুঃসময়ে মোহামেডানকে টিকিয়ে রাখার সাংগঠনিক লড়াইয়ে যে কয়জন কাজ করেছেন তিনি ছিলেন অন্যতম। একটা সময় বিসিবিতে মোহামেডানের অবস্থান খুব শক্ত ছিল না। সাদাকালো দলের অবস্থান সুসংহত করতে বিসিবিতে দুই মেয়াদে নির্বাচন করেন তিনি। লোকমান হোসেন বলেন, 'আমি মোহামেডানের কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছিলাম। পরিচালক হয়েছিলাম মোহামেডানের কোটায়। এটা কারো দয়া, বা কারো আশীর্বাদ নিয়ে নয়, মোহামেডানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালক হয়েছিলাম।' 

বিসিবিতে পরিচালক নির্বাচিত হলে, সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। লোকমান বিসিবিতে দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে মোহামেডানের উন্নয়নের জন্য তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতায় অনেকেই লোকমান হোসেনের কাছে পিছিয়ে পড়েছিলেন। কারণ ক্রিকেটের উন্নয়নে বোর্ডের স্বার্থ বা দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্পণ্য করেননি। আর এসব কারণে অনেকের চোখে ঈর্ষান্বীত হয়ে গত সরকারের সময় মামলা-মোকদ্দমার শিকার হন লোকমান ভাই। ঐ সময় আমাদের কিছু বলার সুযোগ ছিল না।' 

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে কিছু ক্রীড়া সংগঠক বিপদের সময় মোহামেডানের ছায়াতলে আশ্রয় নিতেন, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে একই মানুষগুলো হয়ে উঠতেন ক্রীড়াঙ্গনের মাথা। সেই সুযোগে চোখের সামনে মোহামেডান থেকে খেলোয়াড় কেড়ে নেওয়ার সাহস দেখানো হয়েছে, জোর করে মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়েছিল। 

ক্লাবের অতীত ঐতিহ্য বাঁচানোর লড়াইয়ে প্রথম দিকে নানাভাবে বাধা দিয়ে রাখতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অশুভ শক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হন লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, 'মূলত বিসিবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার টার্গেট করেই আমাকে ষড়যন্ত্র করে ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িয়ে দেওয়া হয়।' বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। লোকমান বলেন, 'আমার নামে সবই ছিল মিথ্যা মামলা। যেসব মামলা দেওয়া হয়েছে যার কোনো প্রমাণ নেই। শুধু মিথ্যা প্রচারের কারণে মামলা হয়েছে।' 

লোকমানের দাবি বিসিবিতে কাজ করার কারণেই এসব মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি আমি। আমার পরিচালক পদ কেড়ে নেওয়া হয়।' মোহামেডান ক্লাবকে বলা হয় এটি বিএনপির পছন্দের ক্লাব। বিএনপি ঘেষা লোকজন অনেকেই নীতিনির্ধারণী চেয়ারে আছেন। বিএনপি করার কারণে মোহামেডানের কর্মকর্তারা বার বার রোষানলের শিকার হয়েছেন, লোকমান হোসেন ভূঁইয়া প্রথম শিকার।

ইত্তেফাক/জেডএইচ