অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পাট শিল্পের ব্যাংক ঋণ ব্লক হিসাবে স্থানান্তরের জন্য দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও করণীয় বিষয়ে গতকাল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৯ নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা মানার কথা বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাট শিল্পের ঋণ ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণের সুদ/মুনাফা অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে আসল বা আসলের অংশবিশেষ ব্লক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। ১০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। আর ঋণের কিস্তি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছে। ব্লক অ্যাকাউন্টে ঋণ স্থানান্তরের পর থেকে ব্যাংকের তহবিল ব্যয়ের সমান সুদ আরোপ করতে বলা হয়েছে। ঋণঝুঁকি নিরসন কৌশলের আওতায় ‘নিড বেসড’ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে জামানত গ্রহণ বা পুনঃমূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। ব্লক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের পরে পর পর চার কিস্তি (এক বছর) পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত সুদহারে ও প্রচলিত নিয়মে ঋণ আদায়যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পাট শিল্পের বিশেষ বিবেচনায় এ সুবিধাটি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এর আগে ব্লক সুবিধা গ্রহণকারী ঋণগ্রহীতারা এবং ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাদের ঋণ অনিয়মিত ও শ্রেণিবিন্যাসিত হয়েছে তারাও এ সুবিধার আওতাভুক্ত বলে বিবেচিত হবেন। পাটখাতের জন্য প্রবর্তিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এর আওতায় প্রদত্ত ঋণসহ বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ঋণের (যেমন-প্যাকিং ক্যাশ ক্রেডিট/পিসিসি ঋণ) ক্ষেত্রে ব্লক সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণ বকেয়া থাকা অবস্থায় কোনো ঋণের জন্য ব্লক সুবিধা বিবেচনা করা যাবে না। পাটখাতের ঋণগ্রহীতাদের ব্লক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ডাউনপেমেন্ট এবং নতুন ঋণ মঞ্জুরীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম জমা ব্যাংক নিজেই নির্ধারণ করবে। ঋণ হিসাবগুলো ব্লক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর বিচারাধীন এ সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো সোলেনামার মাধ্যমে উভয়পক্ষ কর্তৃক নিষ্পত্তি করার বিধান রাখতে হবে।
