ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের অডিটোরিয়ামে,‘আমরা নারী’ এবং ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের -এর যৌথ উদ্যোগে হয়ে গেলো স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার।
বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) এ সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ডা. উম্মে হুমায়রা কানেতা, সার্জিক্যাল অনকোলজিতে এমএস (ফেজ বি) রেসিডেন্ট, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICRH)। আরও ছিলেন বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট ড.মাহবুবা সুলতানা এবং শফিউদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রমুখ। এছাড়া, সেমিনারটিতে স্ন্যাকস পার্টনার হিসাবে ছিল ‘ইম্প্রেশন’।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজে অধ্যায়নরত জান্নাতুল ইসলাম ননীমা, (দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় সেমিস্টার)। আয়োজকদের পক্ষে ছিলেন মো. সামিউল ইসলাম হিরণ, আইটি কনসালটেন্ট, শহীদুল্লাহ স্বপন, উপদেষ্টা এস এম বাহার, ট্রেনিং ডিরেক্টর এবং আমরা নারী ও আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এম এম জাহিদুর রহমান (বিপ্লব)
সেমিনারের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
বিশ্বব্যাপী অক্টোবর মাস স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এই উপলক্ষ্যে, ‘আমরা নারী’ ও ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে চলছে ।
নারীদের প্রাথমিক স্তরে স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি। সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাজে এই রোগ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং সঠিক তথ্য প্রচার করা । তরুণ প্রজন্ম ও কর্মজীবীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসার ঘটানো।
স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ও লক্ষণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০,০০০ এরও বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রায় ৭,৫০০ জনের মৃত্যু ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি নিয়ে আমাদের নারীরা অবহেলা করেন । সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে এই রোগের চিকিৎসা নিতে ও দেরি হয় অনেক । পাশাপাশি দেশের প্রচলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোথায় স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসার জন্য যাবেন , চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কী কী - এসব জানা না থাকাও রোগটির চিকিৎসায় বড় বাধা ।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ
* স্তনে বা বগলে কোনো চাকা বা গোটার উপস্থিতি
* স্তনের চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্ষত পরিলক্ষিত হওয়া
* স্তনের বা বোঁটার আকার পরিবর্তন
*স্তনের বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক রস বের হওয়া।
পরামর্শ
২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে একবার নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা। ৪০ বছর বয়সের পর বছরে একবার ম্যামোগ্রাম করা। এই ম্যামোগ্রাম এর মাধ্যমে একদম প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণ সম্ভব।
