হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রসলুল্লাহ স. বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের বিষয়ে একটি কথা বলব যা কোনো নবী তার জাতিকে বলেননি; তা হলো যে, দাজ্জাল কানা। আর সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের নমুনা নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে সেটিই জাহান্নাম। (মুসলিম ৪/২২৫০)
কিয়ামতের আগে দাজ্জাল এসে মানুষকে গোমরাহ করবে। কিয়ামতের আগে দাজ্জালের আগমণই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফিতনা। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। এ ফিতনা থেকে বাঁচতে আমলা শিখিয়ে দিয়েছেন। এ দাজ্জালকে নবী ঈসা (আ.) হত্যা করবেন। কোন জায়গায় হত্যা করবেন, এ বিষয়ে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসও আছে।
হজরত আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী (রহ.) বলেন, আমি আমার চাচা মুজাম্মি ইবনু জারিয়া আল-আনসারী (রা.)-কে বলতে শুনেছি, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ঈসা (আ.) ’লুদ’-এর কাছে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। (সুনান আত তিরমিজি ২২৪৪)
যে জায়গায় দাজ্জালকে হত্যার কথা বলা হয়েছে, জায়গাটিকে বলা হয় ‘বাবে লুদ’। লুদ বর্তমান ইসরাইল অধিকৃত ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের একটি ছোট শহর। যা তেলআবিব থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ইসরাইলের প্রধানতম বিমানবন্দর বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর এ শহরটির নিকটেই অবস্থিত।
ইসলাম ও খ্রিস্টান, উভয় ধর্মেই কেয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাবের কথা সুস্পষ্ট উল্লেখিত রয়েছে। পৃথিবীর সমাপ্তিলগ্নে এসে দাজ্জাল নিজেকে খোদা বলে দাবী করবে। পৃথিবীতে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করবে, বিপর্যয় ছড়িয়ে দিবে। অবশেষে হযরত ঈসা (আ.) এসে দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং পৃথিবীবাসীকে ফিতনামুক্ত করবেন।
