বহু প্রত্যাশিত সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ৫৯০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ১০৫টি ভাঙন বন্ধ করা হবে এবং ৫৭৫টি বাঁধকে মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ কাজ শেষ হওয়ার কথা। এবারই প্রথম বারের মতো জেলার সবকটি উপজেলায় যথা সময়ে হাওর রক্ষার কাজ শুরু হয়।
অভিযোগ আছে, বিগত সময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনেও দলীয় পছন্দ ও স্বার্থের কারণে বিলম্ব হতো। এতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নেমে বাঁধ ভেঙে কৃষকের কপাল পুড়ত। এবার সময় মতো কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার কৃষকরা খুশি। তারা আশা করছেন, যথা সময়ে সুষ্ঠুভাবে বাঁধ মেরামত কাজ শেষ হলে জেলায় এ বছর ১৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান কৃষকের গোলায় উঠবে। চলতি মৌসুমে অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এবার ১৩৭টি হাওরে ৬৭৫টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়নে পিআইসি গঠনের কাজ শেষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যমান ১ হাজার কিলোমিটার হাওর রক্ষা বাঁধের জরিপ কাজ শেষ। মোট ৫৯০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২৪ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে ৫৭ কোটি টাকা অনুমোদন পাওয়া গেছে। তিনি যথা সময়ের বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, অনেক হাওরের পুরো পানি শুকাতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। তবে শুকনো জায়গাগুলোতে কাজ শুরু হয়ে গেছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের কৃষকদের বরাদ্দ লোপাটের জন্য একটি শ্রেণি প্রতি বছর তৎপর হয়ে ওঠে। তারা ভুয়া, অপ্রয়োজনীয়, অল্প ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধেও পুরো বরাদ্দ দিয়ে সরকারের অর্থ লোপাট করে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, এবারের বোরো মৌসুমে জেলায় সরকার কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ ও সারের ব্যবস্থা করেছে। এ জেলায় এবার বোরো মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
