স্বাধীনতা যুদ্ধে ফুটবল পায়ে যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন তারা স্বাধীন দেশ পেলেও সেই ফুটবল দল ৫৩ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে বহুবার দাবি উঠলেও সেটি অঙ্কুরেই বারবার নষ্ট হয়ে গেছে। এরই মধ্যে একে একে ফুটবল দলের অনেক সদস্য পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তারা স্বীকৃতি পাননি।
গত ১৮ নভেম্বর মারা গেছেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। শোক না কাটাতে চলে গেছেন আরেক সদস্য ফজলে সাদাইন খোকন। আর সেই তালিকায় রয়েছেন-আইনুল হক, আলী ইমাম, সাইদুর রহমান প্যাটেল, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, নওশেরুজ্জামান, শেখ মনসুর আলী লালু, অমলেশ সেন, বিমল কর, শেখ আবদুল হাকিম, লুৎফর রহমান, সিরাজউদ্দিন সিরু, আবদুস সাঈদ, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, আমিনুল ইসলাম সুরুজ, মাহমুদুর রশিদ ও আবদুল খালেকরা।
কিন্তু তারাও দেখে যেতে পারেননি জীবেনর সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। এখন বার্ধক্যে পা রেখেছেন আরও অনেকে। অসুস্থ হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তারাও কি জীবনের সেরা স্বীকৃতি দেখে যেতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল বাফুফের নতুন সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে। তাবিথ জানিয়েছেন, তিনি বাফুফের সভাপতি হওয়ার পর চেষ্টা করছেন এবং কাজ শুরু করেছেন।
গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নানা খেলার আয়োজন করা হয়। বাফুফে ভবনের টার্ফে সাবেক ফুটবলারদের মিলন মেলা বসেছিল। সেখানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা ১৯৭১ সালে যখন বিজয় অর্জন করেছি, তখন ৭ কোটি মানুষেরই বিজয় ছিল। সে বিজয়ে বড় একটা অবদান রেখেছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। তারাই বাংলাদেশের পতাকা প্রথম তুলেছিলেন। তাদের মাধ্যমেই যুদ্ধের তথ্যগুলো পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই দলের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। তবে দল হিসেবে তাদের যে অবদান ছিল সেই স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে একটা আবেদন করেছি। আশা করি, সরকার একটা বিবেচনায় এনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে স্বীকৃতি দেবে।'
লাল এবং সুবজ দলে মধ্যে প্রীতি ম্যাচের লড়াই হয়েছে। বাফুফে ভবনের টার্ফে এই একটা দিনকে কেন্দ্র করে সাবেক ফুটবলারদের দেখা যায়। সবাই মিলিত হন, মামুন বাবু, নকিব, আরমান আজীজ, আলফাজ, আব্দুল্লাহ পাভেজ, প্রানতোষ, নজরুল, রিতু, বিদ্যুৎ, সেন্টু, এমিলি, ফিরোজ মাহমুদ টিটু, আলমগীর, কাঞ্চন, নিজাম, আমান, নয়ন, মেহেদী হাসান তপু, আতা, ছোট মুন্না, আমিন রানা, ওয়ালী ফয়সাল, জুমরাতুল মিঠু, মুরাদ আহমেদ মিলন, অমিত খান শুভ্র প্রমুখ ছিলেন। সাবেক হলেও মোসাব্বের, কানন, গাউস, মনি, স্বপন দাস, সুলতান, কাজী আনোয়ার, রূপু, ইকবালরা খেলেননি।

