পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্লাইমেট এ্যাকশন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি গ্রহণে নেতৃত্ব প্রদানে যুবসমাজকে ক্ষমতায়নে "ইকো-লিডার্স: ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ফর বাংলাদেশ" শীর্ষক উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় ঢাকার মিলিটারি মিউজিয়ামে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়, যা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলবে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদেরদেশজুড়ে পরিবেশ, জলবায়ু এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের জন্য প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে। উদ্যোগটি দ্য আর্থ পরিচালিত, ব্রিটিশ হাইকমিশন, ঢাকার আর্থিক সহায়তায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ তরুণদের জ্ঞান, উদ্ভাবনী ধারণা এবং কমিউনিটিভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সক্ষম করবে যা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান, টেকসই ও নবায়নযোগ্য শক্তি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, ব্রিটিশ উপ-হাইকমিশনার জেমস গ্লোডম্যান।
জেমস গ্লোডম্যান বলেন, তরুণদের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে, এবং ইকো-লিডার্সের মতো উদ্যোগগুলো এই প্রচেষ্টাগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
ড. আইনুন নিশাত তরুণ জলবায়ু কর্মীদের উত্সাহ প্রদান করে বলেন, এই উদ্যোগের সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানাই।
উদ্বোধনের আগে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তরুণ জলবায়ুকর্মীরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য শক্তি গ্রহণে যুবশক্তির সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মতামত জানান। আলোচনাটি পরিচালনা করেন ব্রিটিশ হাইকমিশন, বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশ উপদেষ্টা এ এস এম মারজান নূর। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ জিয়াউল হক যুবদের নীতি প্রণয়নে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার কৌশল তুলে ধরেন। অন্যদিকে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর শামীমা আখতার নবায়নযোগ্য শক্তি উদ্ভাবনে শিল্পখাতের ভূমিকা তুলে ধরেন।
ইকো-লিডার্স উদ্যোগ আগামী তিন বছরে ১১টি দলে ২২০ জন তরুণ জলবায়ু কর্মীকে নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম করে তুলবে। তারা ৫,০০০ যুবককে কমিউনিটি পর্যায়ে সংযুক্ত করবে, যা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সাহায্য করবে। এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের ২০টি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ৪০টি মেডিকেল কলেজ এবং ১০টি যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
উদ্যোক্তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। তাদের প্রকল্পগুলো কর্মসূচির উদ্দেশ্য, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য প্রভাবের উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত হবে। পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সেশন, জাতীয় পর্যায়ের সংলাপ এবং এক্সপোজার ভিজিটের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং এবং সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পরিবেশবিদ, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং জলবায়ু ন্যাজ্যতা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
