চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ নগরবাসীর

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২১:২৬

টানা বর্ষণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ে নিচতলার বাসিন্দারা। উঁচু এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও নিচু এলাকায় এখনো বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। অলিগলির নালাগুলো ভরাট থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। ফলে নিচতলার বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে এখনো পানি জমে রয়েছে। নগরীর সড়কগুলো বারবার উঁচু করায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাট সড়ক থেকে নিচু হয়ে পড়েছে।  এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কগুলোতে ছোটো-বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েকদিন যাবত্ বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল রবিবার দিনের বেলায় ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও হাল্কা বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে গত শনিবার ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নগরীর নিচু এলাকায় রয়ে গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, নগরীর বাকলিয়া, ফরিদারপাড়া, করমপাড়া, কেবি আমান আলী রোড, বাদুরতলা, পাঁচলাইশ, চাক্তাই, মিয়া খান নগর, হালিশহরে অলিতে গলিতে এখনো পানি জমে রয়েছে। নগরীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল। ভারী বর্ষণে হাসপাতালের নিচতলা হাঁটু পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও স্বজনসহ সকলকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। গত শনিবার হাসপাতালে পানি ঢুকে পড়ছিল। হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, নিচতলায় শিশুদের একটি ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও প্রাশাসনিক কার্যক্রম চলে। গতকাল রবিবার সকালে হাসপাতাল থেকে পানি নেমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।’

চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম হায়দার মিন্টু জানান, প্রধান সড়কে এখন পানি নেই। তবে অলিতে গলিতে পানি রয়েছে। নিচতলায় বসবাসকারীরা কষ্টের মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, রাস্তা উঁচু করায় অনেক এলাকার বাসাবাড়ি নিচু হয়ে গেছে। এসব এলাকায় বসবাসকারীরা জলাবদ্ধতা নিয়ে অনেক কষ্টে রয়েছে। পানি নামছে ধীরে। আবদুল করিম রোড, ময়দার মিল ও আহমেদুর রহমান রোডে এখনো পানি জমে রয়েছে।’

নগরীতে অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হচ্ছে সড়কগুলো বারবার উঁচু করার কারণে বাসাবাড়ি নিচে পড়ে যাচ্ছে। ফলে নিচ তলার অনেক বাসা ও দোকানপাট ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যারা কয়েক তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছে তারা বেশি সমস্যায় পড়েছে। ভবন ভেঙে ফেলতেও পারছেন না। গত এক যুগে নগরীর সড়কগুলো কয়েক দফায় উঁচু করা হয়েছে।

কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে নগরীর সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোটো-বড়ো গর্তের। নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গর্তে গাড়ি আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বালু ও ইট দিয়ে গর্ত মেরামতের কাজ চলছে। বৃষ্টি থেমে গেলে কার্পেটিং করা হবে।