একটা গল্প বলব শুরুতেই। গল্পের ভেতর বাস্তব চরিত্র ফুটে উঠেছে বলে মনে করি। গল্পটা এরকম বল্টু একসময় ‘এবি পার্টি’ করত। ‘এবি’ সরকার আমলে এমপি সাহেবের ডান হাত, বাম হাত ছিল বল্টু। নির্বাচনে ‘এবি পার্টি’ ‘বিবি পার্টির’ কাছে হেরে যায়। বল্টু অপহরণ, খুন, লুট, ধর্ষণ, দুর্নীতির দায়ে ২৫/৩০টা মামলায় কারাগারে বন্দি হয়। পল্টু নামক এক ‘বিবি পার্টি’ নেতার হাত ধরে বল্টু ‘বিবি পার্টিতে’ যোগ দিয়ে মামলা থেকে নিষ্কৃতি পায়। বছর খানেক পল্টুর সঙ্গে রাজনীতি করে বল্টু আরেক ‘বিবি পার্টি’ নেতা ছল্টুর গ্রুপে যোগ দেয় বেশি সুবিধা গ্রহণের জন্যে। ছল্টু তখন এমপি ছিলেন। এবার ‘বিবি পার্টি’র মনোনয়ন পেলেন পল্টু। যদি পল্টু জিতে যায় তবে কী করবে তাই নিয়ে রীতিমত চিন্তিত বল্টু। গল্পের বল্টু নামটা ছদ্মনাম, সবাই জানেন। কিন্তু এরকম বল্টু দেশজুড়ে অভাব নেই। সব দলেই বল্টুদের দেখা যায়। যারা চিরদিন জনগণকে চুষে খায়। বল্টুদের নাম দেওয়া হয় কাউয়া, কেউ কেউ বলেন ডিগবাজ নেতা। অথচ এইসব নেতা ছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু স্বচ্ছ নেতাদের নিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারে। কিন্তু ‘কৃষক আর সোনার ডিম দেওয়া গল্পে’র মতন রাজনৈতিক দলগুলোও কৃষকের মতই ধৈর্যহীন। তারা একদিনে সব পেতে চায় কিন্তু পরিশ্রম করতে চায় না। এর ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি আসেনি। তাই এই নির্বাচনে জনগণের কৌতূহল অনেক গুণ বেশি। ঈদের আনন্দে মেতে ওঠা জনগণ চায় না এই নির্বাচনে এইসব বল্টু মার্কা নেতা এসে তার পছন্দের প্রার্থীর পাশে দাঁড়াক। বাংলাদেশের নির্বাচনে সন্ত্রাসী, কালো টাকাসহ বিভিন্ন পেশীশক্তির কারণে জনগণের আশা বারবার ভণ্ডুল হয়ে যায়। তাই জনগণের মনোভাবের দিকে নজর রেখে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল দলের প্রার্থীরই এইসব বল্টুদের দূরে রাখা উচিত বলে মনে করি। ভয় নেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলসমূহের। বল্টুর মত পেশীশক্তির কাউয়া নেতা ছাড়াও, তারা জয়লাভ করবে। আমরা যারা একাত্তর দেখিনি কিন্তু দুই হাজার তেরো দেখেছি। যাদের সৌভাগ্য হয়নি একাত্তরে যুদ্ধ করার কিন্তু হয়েছে তেরোর শাহবাগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার। আমরা চাই না, এমন কেউ বল্টুদের সহযোগিতা নিয়ে সংসদে যাক, যে একাত্তর বোঝে না, একাত্তরের প্রতি মুখে বুলি আওড়ালেও অন্তরে একাত্তরকে শ্রদ্ধা করে না। এবারের নির্বাচন হোক স্বচ্ছ, হোক গরীব, দুঃখী, বেকারের ভাগ্যের চাবি নিয়ে দ্বারে এসে ঘুরবে যে ব্যক্তি, সে।
স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর-পরই কুচক্রীদের হাতে নিহত হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, পয়েট অফ পলিটিক্স বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা জয়ী হবেন তারা উদযাপন করবেন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উত্সব। এই উত্সব এমন কারো হাতে না যাক, যে একাত্তর বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এইসব দিক বিবেচনায় রেখে ভোট দেবেন দেশের সচেতন দেশপ্রেমী নাগরিক। সাধারণ ভোটার যারা, তাদের ভোট হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে বল্টু মার্কা সুবিধাবাদী ডিগবাজ কাউয়ারা। তাই সচেতন হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল পেশাজীবী মানুষের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে যারা এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাদের প্রতি তরুণ প্রজন্মের একটাই দাবি- তারা যেন কিছুতেই একাত্তরের ঘাতক-দালাল, দেশের সাধারণ জনতা চুষে খাওয়া সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, সাম্প্রদায়িকদের কাছে প্রশ্রয় না দেয়।
দেশের সাম্প্রদায়িক দল এবার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে সচেতন নাগরিকদের সাধারণ ভোটারদের কাছে। যাতে এইসব কালো শক্তিকে ভোটাররা বয়কট করে। যে অসাম্প্রদায়িক স্বপ্ন নিয়ে একাত্তরে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল হাজার হাজার বীর বাঙালি, সে স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি দেশে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক একাত্তরের স্বপ্ন, চেতনা বাস্তবায়নে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রার্থীকে বিজয়ী করে তিরিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতকে সম্মান করবে, তাদের আত্মাকে তৃপ্তি দেবে আপনার ভোট, এই প্রত্যাশাই আজ আমাদের।
n লেখক:শিক্ষার্থী, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ, শরীয়তপুর
