আড়াইহাজারে কমেছে আর্সেনিকের প্রকোপ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ০০:৩৩

আর্সেনিক। এক নীরব ঘাতক। টিউবওয়েলের পানি এর প্রধান বাহন। আড়াইহাজারে আর্সেনিক বিষে আক্রান্তের সংখ্যা এখন কমে এসেছে। একসময় এই এলাকায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আর্সেনিকে আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে। এখন গ্রামের মানুষ আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলের পানি নির্ভয়ে পান করতে পারছে। সরকারিভাবে গ্রামে গ্রামে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম বাবুর প্রচেষ্টায় গত আড়াই বছরে ১০৭৫টি সাব মারসিবল পাম্প, ওভারহেড ট্যাংকসহ আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের ৩১৫টি গ্রামে এই নলকূপগুলো স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করতে পারছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শাহিন আলম জানান, ২০১৭ সাল থেকে চলতি ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত আর্সেনিকমুক্ত নলকূপগুলো বসানো হয়েছে। এর মধ্যে খাগকান্দা ইউনিয়নে ৭৪টি, কালাপাহাড়িয়ায় ৮২টি, হাইজাদীতে ১০১টি, ফতেহপুরে ৪২টি, মাহমুদপুরে ৩৭টি, উচিতপুরায় ৫৮টি, সাতগ্রামে ৪০টি, দুপ্তারায় ৮৮টি, আড়াইহাজার পৌরসভায় ২৯৬টি, বিশনন্দীতে ৬২টি, গোপালদী পৌরসভায় ৩৯টি, ব্রাহ্মন্দীতে ১৫৬টি। বাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায়ও আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আরো জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ প্রদান করা হবে।

আর্সেনিক নিয়ে কাজ করা ইউশিকাগো রিসার্চ বাংলাদেশ আড়াইহাজারের ফিল্ড অফিসার ডা. আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আড়াইহাজারের ছয়টি ইউনিয়নে আর্সেনিক নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে এসব এলাকায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৬৫। ২০১৭ সাল থেকে ৭৬৫ জন রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা আর বৃদ্ধি পায়নি। এর ফলে আমরা বলতে পারি, এলাকায় আর্সেনিকের প্রকোপ কমেছে। 

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাইল ভুঁইয়া জানান, আড়াইহাজার উপজেলায় আর্সেনিক সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।