চুরির অভিযোগে সালিশ বৈঠকে মারধর

রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতার শিকার সাত গ্রাম, চাষাবাদ ব্যাহত

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ০০:৩৩

রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদী, মুড়াপাড়া নগর, ঋষিপাড়া, দেওয়ানবাড়ি, ব্রাহ্মণগাঁও, বড়ভিটা ও পাবই এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পানি জমে থাকায় ফসলি জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাবই গ্রামের পশ্চিমাংশ ও ছোট বানিয়াদী, মুড়াপাড়া নগর, ঋষিপাড়া, ব্রাহ্মণগাঁও, বড়ভিটা এলাকার পূর্বাংশ ও দেওয়ানবাড়ি এলাকার উত্তরাংশের ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। কোনো কোনো বসতঘরের মেঝেতে হাঁটু সমান পানি। ঘরের আসবাবপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। কারো কারো আমাশয় ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। মহিলারা দূর থেকে কলসিতে করে পানি সংগ্রহ করছে। এলাকায় জমে থাকা পানির রং কুচকুচে কালো। এ পানিতে হাঁটাচলা করায় অনেকেরই চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। এত কষ্টের মাঝেও অনেকে বাড়ির উঠানে জমে থাকা পানিতে ছিপ ফেলে মাছ ধরছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প ব্ল­ক-১ এর পানি নিষ্কাশন খাল আশপাশের কলকারখানাগুলো দখলে নিয়ে ভরাট করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পাবই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব রফেজা বেগম বলেন, ৬/৭ বছর ধরে বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমরা পানিতে ডুবে থাকি। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। পাবই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইলিয়াছ মিয়া বলেন, এখানকার একটি কারখানায় কেমিক্যালের পরিত্যক্ত বোতল ধোয়া পানি জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মিশছে। এ কেমিক্যালযুক্ত দূষিত পানিতে চলাচল করতে গিয়েই অনেকের চর্মরোগ হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, জলাবদ্ধতার কারণে পাবই গ্রামের ৭০০/৮০০ বিঘা জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। এখানকার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। জমিতে পানি জমে না থাকলে অনেক ফসল ফলত। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ জলাবদ্ধতার জন্য মূলত মিল কারখানাগুলো দায়ী। কিন্তু কারখানা মালিকরা কৃষকদের কোনোরকম ক্ষতিপূরণও দিচ্ছেন না। মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজাহর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বেদখল হওয়া নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প ব্ল­ক-১ এর পানি নিষ্কাশন খাল উদ্ধার করে সচল করতে পারলেই জলাবদ্ধতা দূর হবে। মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য মিল কারখানার কর্তৃপক্ষদের বারবার অনুরোধ জানালেও কোনো ফল হচ্ছে না। পানি নিষ্কাশনের জন্য তারা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।        

আশপাশের শিল্পকারখানার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের মালিকদের পক্ষে বলেন, নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প ব্ল­ক-১ এর পানি নিষ্কাশন খালটি অপরিকল্পিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খালটি সংস্কার করা হয়নি। এ কারণেই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য শিল্পকারখানার নিজস্ব অর্থায়নে ৮ ফুট গভীর করে খাল নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ফকিরের দরগা এলাকা দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর হচ্ছে না। তবে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার ব্যাপারে কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।