অবৈধ সুতা ও কাপড় ব্যবসায়ীদের তালিকা এনবিআরে

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ০১:০৪

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে সুতা ও কাপড় বিক্রির সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের একাধিক তালিকা পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। তালিকায় থাকা অবৈধ কারবারিদের বেশিরভাগই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও টানবাজার, গাজীপুর, নরসিংদীর বাবুরহাট ও মাধবদী, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, শাহজাদপুরের। এ রকম ৫০ এর অধিক অবৈধ সুতা ও কাপড় ব্যবসায়ীর তালিকা বিভিন্ন উত্স থেকে পেয়েছে বন্ড কমিশনারেট। এর বাইরে পুরান ঢাকার ইসলামপুরসহ আরো কয়েকটি এলাকার মার্কেটে কাপড় ছাড়াও চোরাই পথে আসা পণ্য বিক্রেতাদের একটি তালিকাও পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব তালিকা অনুযায়ী রাজধানী ও স্পিনিং এবং টেক্সটাইল মিল অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়েছে এনবিআরের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে বন্ডের অবৈধ সুতা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত একটি বড়ো মাফিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। ঐ ব্যবসায়ীর কম্পিউটার জব্দ করে সেখানে এই বিকিকিনির সঙ্গে যুক্ত একটি বড়ো গ্রুপেরও সন্ধান মিলেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত চার মাসে বন্ড সুবিধায় আনা মালামাল চোরাই পথে বিক্রি ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০৫টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত পণ্য চোরাই পথে খোলাবাজারে বিক্রয়ের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৪৭টি পণ্যবাহী যানবাহন আটক, ৫টি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বন্ডের মালামাল অবৈধ বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। ঐ তালিকার ভিত্তিতে বেশকিছু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সম্প্রতি মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে এ ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ওপরের সারির একজন মাফিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। তার প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার জব্দ করে বেশকিছু ব্যবসায়ী ও সুতা কেনাবেচার তথ্যও পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, রাতে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পুরান ঢাকায় অতর্কিত হামলায় কয়েকজন শুল্ক কর্মকর্তা আহতও হয়েছেন।

শাহজাদপুর এলাকার একজন স্থানীয় সুতা উত্পাদনকারী ইত্তেফাককে জানান, এসব ব্যবসায়ী তাদের দোকান কিংবা গুদামে কোনো সুতা রাখেন না। বন্দর থেকে সরাসরি গ্রাহককে সুতা সরবরাহ করেন। এসব চোরাই মালের নির্ধারিত মার্কা আয়না ও শুভরাজ গোল্ড। তিনি জানান, এনায়েতপুর হাটে প্রতি শুক্রবার, সোহাগপুর হাটে প্রতি বুধবার ও শাহজাদপুরে প্রতিদিন হাট বসে। এসব হাটে চোরাই সুতা বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় টেক্সটাইল মিলের মালিক ইত্তেফাককে বলেন, বন্ডের অবৈধ কাপড় বিক্রির সবচেয়ে বড়ো স্থান রাজধানীর ইসলামপুর। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বিদেশি কাপড় কিনে নিয়ে বিক্রি করে থাকে। ইসলামপুরের বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি (কোতোয়ালি থানার পাশে) চোরাচালান ও অবৈধ কাপড়ের সবচেয়ে বড়ো আকারের বেচাকেনা হয়।

বন্ড কমিশনারেটের অফিস সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রিক ও সুতা ছাড়াও অভিযানে কাগজ, বিওপিপি ফিল্ম, পিপি দানা, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকার রাজস্ব উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এছাড়াও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ২৮১টি প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।