জানা-অজানা

বজ্রপাত রহস্য

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৯:২১

 

আকাশে বিদ্যুত্ চমকাতে দেখলে একসময় মানুষ অবাক হতো। প্রাচীনকালে মানুষ মনে করত আকাশে দেবতাদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ তাণ্ডবই হচ্ছে বিদ্যুত্ চমকানো বা বজ্রপাতের কারণ। এ নিয়ে অনেক উপকথাও রয়েছে। কিন্তু এসব পৌরাণিক গল্প কিংবা উপকথা বিজ্ঞানীরা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। বিজ্ঞানীরা মেঘের অভ্যন্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, অলৌকিক কোনো ঘটনা বা দেবতা নয়—বিচিত্র এক ধরনের সূক্ষ্ম আলোক স্ফুরণই হচ্ছে বিদ্যুত্ চমকানোর মূল কারণ।

কিছু কিছু আলোক রশ্মি মেঘের ওপর দিকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুত্ চমকানোর সময় সবসময় আমরা এগুলো দেখে থাকি। কখনো কখনো এই আলোকরশ্মি পৃথিবীতে অত্যন্ত ভয়াবহভাবে প্রদর্শিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, অস্বাভাবিক বিদ্যুত্ চমকের ফলে মেঘের ওপর যখন ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তখন বায়ুমণ্ডলে ইলেকট্রিক্যাল চার্জড অ্যাটম বা প্রবহমান আয়ন এবং ইলেকট্রন এই ক্ষেত্র দ্বারা গরম হয়ে ওঠে। ফলে আকাশে রক্তিম আভা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, কসমিক-রে এবং ঐ অঞ্চলের বায়ু কণিকার সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ব্লু-জেট আভার সৃষ্টি হয়। আর এই সংঘর্ষের ফলেই সৃষ্টি হয় দ্রুত গতিসম্পন্ন ইলেকট্রন। পরবর্তী সময়ে মেঘের ওপর অবস্থিত ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ক্ষেত্র দ্বারা এই ইলেকট্রন আরো গতিসম্পন্ন হয়ে অধিক শক্তিসম্পন্ন হয় এবং এর ফলে নীল আলোর সৃষ্টি হয়। উত্পত্তিস্থল থেকে এগুলো স্বাভাবিক বিদ্যুত্ চমকানোর মতোই শুরু হয়। কিন্তু এক সেকেন্ডের এক শ ভাগের এক ভাগেরও কম সময়ে এগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিদ্যুত্ চমকানোর ফলে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালসের সৃষ্টি হয়। এই পালসের উত্পত্তি স্থল থেকে  বেলুনের মতো স্ফীত হতে থাকে। পালস যদি যথেষ্ট শক্তিশালী হয় তাহলে এটি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার এবং আয়োনোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী সংযোগ স্থলে আয়নকে শক্তিশালী করে এবং ইলেকট্রনকে মুক্ত করে দেয়। আর এর ফলে চার্জ হওয়া কণিকাগুলো উত্তপ্ত হয়ে উজ্জ্বল লোহিত বর্ণে আলো ছড়ায়। বিভিন্ন গবেষক বজ্রপাত বা বিদ্যুত্ চমকানোর বিভিন্ন রহস্য উদঘাটন করলেও অনেকেই মনে করছেন বিদ্যুত্ চমকানোর অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, আপাতত এটিই হচ্ছে বিদ্যুত্ চমকানোর কারণ এবং রহস্য।