রাজধানী ঢাকায় গতকাল শীত জেঁকে বসেছিল। শীতের পাশাপাশি ছিল তীব্র কুয়াশা। তার মধ্যেই মিরপুরে অনুশীলন করেছে ফরচুন বরিশাল ও ঢাকা ক্যাপিটালস। ক্রিকেটাররা শীতের সকালে অপেক্ষা করছিলেন এক চিলতে রোদের। কিন্তু আসি আসি করেও রোদ চালিয়ে যাচ্ছিল টালবাহানা। তবু ভাটা পড়েনি ক্রিকেটারদের অনুশীলনে। গা গরম করে নেওয়া থেকে শুরু করে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সকলে ছিলেন সাবলীল ভঙ্গিতে। যেখানে বিশেষভাবে নজর ছিল ফরচুন বরিশালের ওপরে।
গেল বিপিএলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বরিশাল। সেই আসরে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। পরে বিপিএলের সবচেয়ে সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে শিরোপা তুলেছিল বরিশাল। এবার কুমিল্লা অংশ নেয়নি। তবে সদর্পে নিজেদের অবস্থানের জানান দিচ্ছে রংপুর। এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় তুলে নিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। আজ তাদের কঠিন পরীক্ষা। চ্যাম্পিয়ন বরিশালের বিপক্ষে সন্ধ্যায় মুখোমুখি হবে রংপুর। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গড়াবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
আর দিনের প্রথম ম্যাচে দুপুর দেড়টায় ঢাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হবে দুর্বার রাজশাহী। এই দু'দল মুখোমুখি হচ্ছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে উভয়ই হেরেছে। রাজশাহী হেরেছিল বরিশালের বিপক্ষে এবং ঢাকা হেরেছিল রংপুরের বিপক্ষে। একাদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ১৯৭ রান করেও রাজশাহী জয় তুলে নিতে পারেনি। আর ঢাকা হেরেছিল রংপুরের ১৯২ রানের লক্ষ্য ভেদ করতে গিয়ে। এবার দল দুটি নিজেদের মধ্যকার লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের অপেক্ষায়। ঢাকার বোলার নাজমুল ইসলাম অপু বলেছেন, প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা কাজে লাগেনি। প্রথম হওয়ার কারণে সেভাবে তারা গুছিয়ে উঠতেও পারেননি। তবে এবার বোলারদের কাঁধে চড়ে রাজশাহীকে হারাতে প্রস্তুত ঢাকা।
অন্যদিকে রাজশাহীর বোলার হাসান মুরাদ জানিয়েছেন, উইকেট ভালো হওয়ার কারণে বোলারদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে তারা জেতার জন্যই মাঠে নামবেন। ফ্লাডলাইটের আলোয় বরিশাল-রংপুর ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। গেল বিপিএলে তামিম ইকবাল বরিশাল ও সাকিব আল হাসান রংপুরে খেলেছিলেন। যখনই এই দুদল মুখোমুখি হয়েছে তখনই দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। এবার সাকিব বিপিএলে নেই। চিটাগাং কিংস তাকে দলে ভেড়ালেও মাঠে নামার সম্ভাবনা কম। তামিম যথারীতি বরিশালে রয়েছেন।
চলতি বিপিএলে দুই ম্যাচ জেতা রংপুরের পরীক্ষা নেবেন তিনি। তার দলে রয়েছে জাতীয় দলের অধিকাংশ তারকা। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রিশাদ হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা থাকায় দলটি মিনি জাতীয় দলে পরিণত হয়েছে। বিদেশিদেরও কমতি নেই। কাইল মায়ার্স, শাহিন আফ্রিদি, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নবীর মতো ক্রিকেটার সেখানে রয়েছেন। তাতে রংপুরের তৃতীয় জয় তুলে নিতে কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে। তবে দুটি জয় তুলে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে রংপুর।
ঢাকার বিপক্ষে তারা প্রায় ২০০ ছোঁয়া সংগ্রহ গড়েছিল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রান তুলনামূলক কম করলেও সিলেট স্ট্রাইকার্সকে পাত্তা দেয়নি নুরুল হাসান সোহান বাহিনী। নাহিদ রানা, শেখ মাহেদীর মতো তরুণ প্রতিভা রয়েছে রংপুরের দখলে। দুটি ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও ইংলিশ তারকা অ্যালেক্স হেলস একাই পারেন পুরো ম্যাচের ব্যবধান টানতে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ। সোহান নিজেও রয়েছেন ফর্মে। তাতে বরিশাল-রংপুর ম্যাচে দর্শকরা অপেক্ষা করছেন চরম রোমাঞ্চের ছোঁয়া পেতে।
