রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রকৌশল শাখায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইনের নেতৃত্বে এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ও উপসহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান।
অভিযান শেষে দুদকের কর্মকর্তারা জানান, রাসিকের নগর ভবন সংস্কারকাজ ইতিমধ্যে অর্ধেক শেষ হয়েছে। বেশির ভাগ কাজের ঠিকাদার নির্বাচনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবার যেসব কাগজ দিয়েছেন, তার একটি যাচাইয়ের জন্য ঠিকাদারের মোবাইল ফোন নম্বর হিসেবে উল্লেখ থাকা নম্বরে ফোন করে দুদক দেখেছে, নম্বরটি কোনো ঠিকাদারের নয়। তিনি চাঁদপুরের এক ব্যক্তি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই নগর ভবনে তাণ্ডব চালানো হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। সম্প্রতি বিপুল ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। তবে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, দড়িখড়বোনার বিএনপি নেতা ইয়াহিয়া খান মিলু সিংহভাগ কাজ করছেন। ইতিমধ্যে নগর ভবনের রং করার কাজ শেষ হয়েছে। লাগানো হয়েছে নতুন গ্লাস। এখন প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে মেয়রের দপ্তর সংস্কার করা হচ্ছে। তবে কাজের কোনো টেন্ডার হয়নি। 'কোটেশন মেথডে' কাজ করার কথা বললেও এখনো কাগজপত্র প্রস্তুত হয়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুদকের কর্মকর্তারা নগরভবনে অভিযানে গেলে দীর্ঘ সময় তাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে দুদকের দলকে বিল দেওয়া হয়েছে এমন তিনটি কাজের কাগজপত্র দেওয়া হয়। চলমান সাতটি কাজের কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী। কার্যাদেশ ছাড়াই ঠিকাদার কীভাবে কাজ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে?
দুপুরে অভিযান শেষে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বলেন, 'তারা ফরিদা ইয়াসিমন, মাইসা এন্টারপ্রাইজ এবং শাহরিন এন্টারপ্রাইজ নামের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র পেয়েছেন। মাইসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইয়াহিয়া খান মিলু। শাহরিন এন্টারপ্রাইজের কাগজপত্রে স্বত্বাধিকারী হিসেবে এম এম মাহফুজুর রহমান নাম রয়েছে। তবে মোবাইল নম্বরে ফোন করে দেখা গেছে, নম্বরটি তার নয়। চাঁদপুরের এক ব্যক্তি ফোন ধরে বলেন, তিনি ঠিকাদার নন। কোনো দরপত্রেও অংশ নেননি।
শাহরিন এন্টারপ্রাইজ ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪০ টাকার কাজ করেছে। এই কাজের কাগজ জাল হিসেবে মানে করা হচ্ছে জানিয়ে দুদক কর্মকর্তা আমির হোসাইন বলেন, 'যারা কাজ পেয়েছে একই ব্যক্তি মনে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাছাকাছি দর দাখিল করেছে। তারা কাজ পেয়েছে। পিপিআর অনুযায়ী প্রতিযোগিতা হতে হবে। এখানে প্রতিযোগিতা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়নি।'
তিনি বলেন, 'কাগজ দেওয়ার জন্য আমাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়েছেন। কিন্তু মাত্র তিনটা ফাইল তারা আমাদের দিয়েছেন। আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, এখনো সাতটা কাজ চলমান। সিটি করপোরেশন তিনটি কাজের ফাইল দিতে পেরেছে। কিন্তু সাতটা কাজের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অলরেডি কাজের হাফ ডান।'
দুদকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, 'তারা তাদের মতো বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি।'

