বাবার মৃত্যুর সাত দিন পর প্রাণ গেল ছেলের

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১৫:১৯

মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরেছিল ১৩ বছরের কিশোর হুসাইন বেপারী। পরিবারে তিন বোনের এক ভাই হুসাইন। তার রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলতো পরিবারটির জীবিকার চাকা। কিন্তু সেই রিকশাই যেন কাল হলো। রিকশা নিয়ে বের হয়ে আর ফেরেনি হুসাইন।

সবশেষ শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষীপুর কালিমন্দির এলাকা থেকে হুসাইন বেপারীর লাশ উদ্ধার  করে পুলিশ। এ সময় তার রিকশাটির খোঁজ মিলেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই খুন হয় হুসাইন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, নিহত কিশোর শহরের টেপাখোলা বেপারীপাড়া এলাকার মৃত খোকা বেপারীর ছেলে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট হুসাইন। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই হুসাইনের মারা যান হুসাইনের বাবা। তারপর পরিবারের হাল ধরতে আত্মীয়-স্বজনের টাকায় একটি ব্যাটারি রিকশা কিনেছিল  এ কিশোর। সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে রিকশা নিয়ে বের হন হুসাইন। এরপর শুক্রবার সকালে  কালিমন্দির এলাকা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই ওবায়দুর বলেন, বৃহস্পতিবার রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল হুসাইন। প্রতিদিন রাত ৮টায় ফিরে। কিন্তু গতকাল ফিরেনি। সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি হুসাইনের মরদেহ। ওর রিক্সাটিও নেই। এক সপ্তাহ আগে ওর বাবা স্ট্রোক করে মারা যায়। পরে আত্মীয় স্বজনের তাকে ব্যাটারি চালিত রিকশা ব্যবস্থা করে দেয়, যাতে করে হুসাইন মা বোনদের নিয়ে সংসার চালাতে পারে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) শৈলেন চাকমা বলেন,  স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার গলা রশি দিয়ে পেঁচানো ছিল। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা ইউনিটও ঘটনা তদন্ত করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। 

ইত্তেফাক/এপি