ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী
ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ফুলবাড়ীয়ায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। আর এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে মাসের পর মাস কোমলমতিদের ক্লাস। ভবনের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবরে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে অন্যত্র ভর্তি করছে। আবার কোথাও ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু শিক্ষার্থী নয়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে গিয়ে আতঙ্কে থাকেন শিক্ষকরাও।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৭টি।
সরেজমিনে উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, ভবনের মেঝের পলেস্তারা উঠে গেছে অনেক আগেই। দেওয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ভিমে ফাটল ধরে ভেঙে পড়ছে চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চের ওপর। আহত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। ২০০০-২০০১ অর্থবছরের চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বেকায়দায় আছেন প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার। তিনি জানান, ভারী বৃষ্টিতে ছাদ ভিজে পানির সঙ্গে পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। বিদ্যালয়ে আসার পর একদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তা ও অপরদিকে স্টাফদের নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। কখন জানি কার ওপর ভেঙে পড়ে ছাদের পলেস্তরা। এক সময় প্রতিটি ক্লাসে ফ্যান চলতো এখন তাও লাগানো যায় না। ফ্যান ঘুরলে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে। ভিমগুলো আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অভিভাবকরা ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে শিশুদের আসতে দিতে চায় না। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেকবার আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন ভবনের কথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বলতে গেলে তারা শুধু আশ্বাস দেন। কিন্তু কাজ হয় না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শেফালী খাতুন জানান, আমার মাথায় ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়েছিল। সেদিন থেকে ভবন নিয়ে ভয় কাজ করে।
জামিল আজিজ নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, আমার মেয়ে ছোট ও মাত্র স্কুলে আসে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভয় লাগে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন আরা জানান, উপজেলার অর্ধশতাধিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা দেওয়া আছে। এছাড়া, দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ আমি এটা শুনেছি। অন্য কোনো বিকল্প উপায় তৈরি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনা করা যায় কি না তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।
