নাটোরে চিকিৎসকের ভুলে ৩০০ হাঁসের মৃত্যু

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে পল্লী চিকিৎসকের ভুলে ৩০০ হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও ৩৭০টি হাঁস। এতে রীতিমতো পথে বসার উপক্রম হয়েছে ভুক্তভোগী খামারি ফরজ আলীর।

এ ঘটনায় তিনি রোববার (৫ জানুয়ারি) থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী খামারির অভিযোগ, স্থানীয় পল্লী পশু চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের ভুল চিকিৎসায় এর মধ্যে তার পাঁচ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এখন বাকি হাঁসগুলো মারা গেলে ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ দাঁড়াবে বলে তার দাবি। 

জানা যায়, উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের পারকোল গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে ফরজ আলী ৭-৮ মাস আগে একদিন বয়সী বাচ্চা কিনে বাড়িতেই হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। ১৫-২০ দিন আগে হাঁসগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে।

প্রচণ্ড শীতে হাঁসগুলোর হালকা সর্দি লাগে। এরপর তিনি বনপাড়ার পল্লী চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের কাছে গেলে সেই চিকিৎসক শনিবার সন্ধ্যায় আর সর্দি লাগবে না জানিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে সবগুলো হাঁসকে এন্টিবায়োটিক ওষুধ দেন। ওষুধ দেওয়া শেষ হতেই হাঁসগুলো অসুস্থ হয়ে একে একে মরতে শুরু করলে চিকিৎসক দ্রুত চলে যান। এভাবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই খামারের ৩ শত হাঁস মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ফরজ আলী জানান, খামারের সাড়ে ৪ শত হাঁস ডিম দিচ্ছিল। ইতিমধ্যে ৩ শত মারা গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজে এসেও অবশিষ্টগুলোরও কোনো চিকিৎসা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করে তিনি আরও জানান আজ রাতেই বাকি হাঁসগুলো হয়তো মারা যাবে । 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক শরীফুল ইসলাম বলেন, আমি হাঁসগুলোকে ‘জেন্টামাইসিন সালফেট’ নামের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছিলাম। হয়তো হাঁসগুলো এই অ্যান্টিবায়োটিক সহ্য করতে না পেরে মারা গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে হাঁসের মরদেহ এনে ময়নাতদন্ত করেছি। হাঁসের শরীরে কোনো রোগ ছিল না। অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রার কারণে হয়তো হাঁসগুলো মারা গেছে। এছাড়া ইনজেকশন পুশ করার ফলে মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক ছড়িয়ে পড়ার কারণে কোনো ওষুধ আর কাজ করছে না।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএস