জবির খানাখন্দে ভরা মাঠেই আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ২১:৪০

আহত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একমাত্র খেলার মাঠ ধূপখোলাতেই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা। আশপাশে নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনের আবর্জনা ফেলা হয় এ মাঠে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলতে নেমে হাত-পা কেটে আহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যার অভাবে ও যত্রতত্র খানাখন্দে ভরা ব্যবহার অনুপযোগী মাঠের কোনো সংস্কার না করায় খেলতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বারবার মাঠ পরিচর্যার আশ্বাস দিয়েও কোনো প্রকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ধূপখোলার এই মাঠ নিয়ে স্থায়ী কোনো পরিকল্পনা নেই প্রশাসনের। এখন এভাবেই খেলতে হবে। আগামী নভেম্বরে আমাদের সমাবর্তনের আগে নতুন মাটি দিয়ে মাঠটি ভরাট করা হবে। এরপর কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস হলে সেখানেই খেলাধুলার সকল সুবিধা দেওয়া হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে গ্যালারির মতো করে তৈরি হয়েছে একতলা মার্কেট। যেটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মার্কেট হিসেবে পরিচিত। মাঠের বেহাল দশায় ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা হয় ক্যাম্পাসের ভেতরে বিজ্ঞান ভবনের সামনে পাকা মাঠে অথবা কলা ভবনের সামনের জায়গায়। মাঠের বেহাল দশার কারণে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য অনেক সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী ঈস্ট বেঙ্গল খেলার মাঠ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠ ব্যবহার করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে অনুশীলন করে। জানা যায়, মাঠটি সারা বছরই বহিরাগতদের দখলে থাকে। মাঠের দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাঠটি সময়ের ব্যবধানে বেদখল হওয়ার আশঙ্কা আছে। মাঠটি বছরে একবার ব্যবহারের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। অন্য সময়ে স্থানীয়দের দখলে থাকে । কার্যত মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় আন্তরিক নয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ এ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, মাঠে পড়ে থাকা ইট আর পাথরের সঙ্গে আঘাত লেগে প্রতিনিয়ত হাত-পা কেটে ছিঁড়ে যায়। অথচ মাঠটির সংস্কার নিয়ে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ পরিস্থিতির অবসান চায় শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলী নূর বলেন, মাঠটি আসলে খেলার উপযুক্ত নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর পর সেখানে স্বল্প পরিসরে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। সমাবর্তনের আগে আমরা মাঠটিতে মাটি দিয়ে ভরাট করে খেলার উপযোগী করব।