সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ বিশেষজ্ঞদের
বাসস
চার সন্তানের জননী রাফিজা খানমের বয়স এখন ৩৬ বছর। বাবা-মা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দশম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় বিয়ে হয় প্রবাসী আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে। বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে রাফিজা। আর তাই পরের মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়া হয়নি তার। কিন্তু স্বামী আশ্বস্ত করেন, বাচ্চা হওয়ার পরে তিনি আবার পড়ালেখা করতে পারবেন। এভাবেই একসময় মাস্টার্স শেষ করে নীলফামারীর স্থানীয় এক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরিও পেয়ে যান রাফিজা। স্বামী প্রবাসে থাকলেও চার সন্তান নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। কিন্তু কয়েক মাস ধরে শরীরটা খুব খারাপ যাচ্ছে তার। প্রায় সময়ই তলপেটে যন্ত্রণা আর প্রশ্রাবে জ্বালাপোড়া করে। শেষ পর্যন্ত এক গাইনি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেন রাফিজা। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় রাফিজা জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত। যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার।
ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসারের (আইএআরসি) সূত্রমতে, বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন স্তন ক্যানসারে। এর পরেই জরায়ুমুখ ক্যানসার। প্রতিবছর জরায়ুমুখ ক্যানসারে বাংলাদেশে ৮ হাজার ৬৮ জন আক্রান্ত হন। আর মৃত্যুবরণ করেন প্রায় ৫ হাজার। এছাড়া বিশ্বে প্রতিবছর এই রোগে আক্রান্ত হন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নারী। আর মৃত্যু হয় প্রায় ৩ লাখ নারীর।
গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রোকেয়া বেগম বলেন, মূলত জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) নামের এক ভাইরাস। আর এই এইচপিভি বিভিন্ন ধরনের আছে, যার মধ্যে এইচপিভি ১৬ ও ১৮ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য সবচেয়ে বেশি মারাত্মক। তিনি বলেন, মূলত যেসব মেয়ের বাল্যবিবাহ হয় এবং যেসব নারী অধিক সন্তান জন্ম দেন, তারাই এই জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকেন।
আরেক গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শাহানা আক্তার বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে এখনো গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধির সময় নোংরা কাপড় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের স্কুল পর্যন্ত বন্ধ করে দেন কিছু কিছু অভিভাবক। অথচ এর কোনো দরকারই হয় না। এখন বাজারে অল্প দামে দেশে তৈরি বিভিন্ন ধরনের প্যাড পাওয়া যায় এবং তারা এসব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।
ডা. শাহানা বলেন, প্রাথমিকভাবে এই ক্যানসার ধরা পড়লে খুব সহজেই নিরাময় সম্ভব। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে যদি দেরিতে ধরা পড়ে, তাহলে তা অনেক সময় জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। অনেক সময় ডাক্তারদেরও আর কিছু করার থাকে না। আর তাই এ বিষয়ে পরিবারের সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
