কংগ্রেসের ভিন্ন বর্ণের নারীদের ‘দেশে ফিরতে’ বলে টুইট
g বিবিসি ও রয়টার্স
ডেমোক্র্যাট দলীয় কয়েকজন নারী কংগ্রেস সদস্য সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক টুইট করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ঐ নারীরা নিজেরা ‘এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানকার সরকার সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।’ এরপরেই তিনি ঐ নারীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘ফিরে যাও।’
কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে চার ভিন্ন বর্ণের কংগ্রেস সদস্যদের কিছুটা বচসা হওয়ার ঘটনার পরের সপ্তাহে এমন টুইট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এক সঙ্গে করা তিনটি টুইটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের তিন নারীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘ভয়ংকরভাবে’ সমালোচনা করার অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘খুবই অবাক লাগে দেখতে যখন ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসের নারী সদস্যরা, যারা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে তাদের সরকার বিপর্যস্ত, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সবচেয়ে অদক্ষ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানকার মানুষদের বলছে কীভাবে আমাদের সরকার পরিচালনা করতে হবে। তারা কেন তাদের নিজেদের অপরাধপ্রবণ দেশে ফিরে গিয়ে তাদের পরিস্থিতির উন্নয়ন করে না! তারপর ফিরে এসে আমাদের জানালেই পারে যে কীভাবে সে কাজ করলো তারা।’’
নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি নিউ ইয়র্কের আলেকজান্ড্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, মিনেসোটার ইলহান ওমর, ম্যাসাচুসেটসের আইয়ানা প্রেসলি ও মিশিগানের রাশিদা তালিবকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের তিনজনই অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ডেমোক্রেট প্রতিনিধিদের এই দলটি ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত। এরা ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান ডেমোক্রেট দলীয় নেতৃবৃন্দেরও সমালোচনা করে আসছেন। ট্রাম্পের ঐ মন্তব্যে ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদেরও অনেককেই সমালোচনা করতে দেখা গেছে। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট সম্পর্কে লিখেছেন, মন্তব্যটি ‘জেনোফোবিক’ (বিদেশিদের সম্পর্কে অহেতুক আতঙ্ক তৈরি করার প্রবণতা)। নিজের টুইটে পেলোসি লেখেন, ‘আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি এবং একতাই আমাদের ক্ষমতা।’ ডেমোক্র্যাট বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ অভিহিত করে এর সমালোচনা করেছেন।
