ভরা বর্ষায় সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর জেলার পানি নামে সালতা নদী হয়ে। জেলাগুলোর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ এ নদীর ওপর নির্ভরশীল। গুরুত্ব বিবেচনায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে খনন করা হলেও সেই সালতা নদী আবারও রূপ নিয়েছে সরু খালে।
স্থানীয়রা জানান, সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সীমান্তবর্তী সালতা নদী সেখানকার ভূপ্রকৃতির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর জেলার বর্ষার পানি নেমে যায় এ নদী দিয়ে। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজেও ব্যবহার হয় সালতার পানি। সালতা রক্ষায় আরও তিন বছর আগে খনন করা হয়েছিল। কিন্তু তা আবারও ভরাট হয়ে গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নতুন করে খনন ও টাইডাল রিভারাইন ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ডুমুরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বর্ষার পানি প্রবাহিত হয় সালতা নদী দিয়ে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ নদী ২০১৯ সালের জুনে খননের উদ্যোগ নেয় পাউবো। খননের কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। তালা উপজেলার কাঠবুনিয়া থেকে খলিলনগর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার খননে ব্যয় হয় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, ২০২৪ সালে সাতক্ষীরায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু সালতা ভরাটের কারণে পানি নামতে না পারায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। শিগগির খননের ব্যবস্থা ও টিআরএম বাস্তবায়ন না করা হলে আগামী বর্ষায় এমন বৃষ্টিতে একইভাবে দুর্ভোগে পড়তে হবে সালতা পাড়ের বাসিন্দাদের।
একই গ্রামের বিষ্ণু পদ মন্ডল বলেন, ‘যারা ঘের করে, তারা পানি ধরে রাখে। তাই পলি জমে সংযোগ খাল ভরাট হয়ে গেছে। জোয়ার-ভাটা না থাকলে এই নদীর নাব্যতা বজায় থাকবে না। ফলে বর্ষার সময় আমাদের ডুবে মরতে হবে, আর শুকনোর সময় শুকিয়ে মরতে হবে।’
উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সালতা নদী দুই জেলায়। সাতক্ষীরার তালার ওপর দিয়ে খুলনার পাইকগাছা হয়ে শিপসা নদীতে মিশেছে। আর ওদিকে ডুমুরিয়ার ওপর দিয়ে চলে গেছে। চার বছর আগে তালতলা অংশ পর্যন্ত কাটা হয়েছে। দুঃখজনক হলো, নদী কেটে দুই পাশে মাটি ফেলে তারা চলে গেছে। এখন ভরাট হওয়ায় গরু-ছাগল চরাচ্ছে লোকজন।’
‘সালতা বাঁচাও’ কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার ইমান আলী বলেন, ২০২১ সালে খনন করা হয় সালতা নদী। খননের তিন বছরের মাথায় আবারও ভরাট হয়ে এটি সরু খালে পরিণত হয়েছে। কিন্তু টিআরএম বাস্তবায়ন করলে ওই নদী ভরাট হতো না।
সাতক্ষীরা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টিআরএম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে। টেকনিক্যালি দৃশ্যমান কি না, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি-না, সবদিক দেখে এটার ভিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়া এটা বলা সম্ভব নয়।’
