রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসান নামে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফুদকিপাড়ার ‘এবেলা ছাত্রাবাসে’র নিজ রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা যায়।
জানা গেছে, মেহেদী হাসান রুয়েটের আরবান প্ল্যানিং (ইউআরপি) বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রংপুর শহরের কোতোয়ালি থানার বনানীপাড়ার নূর ইসলামের ছেলে। রুয়েট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ শনিবার (১১ জানুয়ারি) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রুয়েটের ছাত্র উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে মেহেদীর মা তাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। এভাবে সারাদিন গড়িয়ে গেলে রাত ১১টার দিকে তিনি ছাত্রাবাসের আরেক ছাত্রকে ফোন করে মেহেদী রুমে আছে কি না দেখতে বলেন। তখন শিক্ষার্থীরা দেখেন যে মেহেদীর রুম ভেতর থেকে লাগানো। এরপর তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেহেদীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখেন তারা।
তিনি আরও বলেন, দুই সিটের একটি রুমে থাকতেন মেহেদী। তার রুমমেট নেই। রুমে একাই ছিলেন মেহেদী। ছাত্রাবাসের অন্য শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, মেহেদীর ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করে বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এক বিষয়ে ফেল থাকার কারণে মেহেদী যেতে পারেননি। এটা নিয়ে তার ডিপ্রেশন ছিল। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এই ডিপ্রেশনের কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, রাত ১১টার দিকে ছাত্রাবাসের অন্যরা ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেহেদী আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আরও তথ্য সংগ্রহের পর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা তদন্ত করছি।
