রামপুরায় জাল রুপি তৈরির কারখানা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০৩

আসন্ন কোরবানির ঈদে ভারত থেকে অবৈধভাবে পোশাক ও গরু আমদানির কাজে জাল ভারতীয় রুপি ব্যবহারের জন্য একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চক্রটি রাজধানীর আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে  জাল রুপি তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে। এরকমই একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোমবার ডিবির উপকমিশনার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম রামপুরা এলাকার পলাশবাগ মোড়ের একটি আবাসিক ভবনের অষ্টম তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ওই জাল রুপি তৈরির কারখানার সন্ধান পান। তারা দেখতে পান, সেখানে নিখুঁতভাবে জাল রুপি তৈরি করা হচ্ছিল। জাল রুপিগুলো প্রকৃত রুপির নোটের সঙ্গে চালিয়ে দিলে তা শনাক্ত করার কোনো উপায় থাকে না। ঘটনাস্থল থেকে ডিবি পুলিশ রফিকুল ইসলাম খসরু, আব্দুর রহিম ও জনি ডি কস্তা নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ২১ লাখ জাল রুপি ও জাল রুপি তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলোর মধ্যে ছিল একটি ল্যাপটপ, একটি কালার প্রিন্টার, একটি লেমিনেশন মেশিন, জাল রুপি তৈরির বিপুল পরিমাণ কাগজ, প্রিন্টারে ব্যবহূত বিভিন্ন ধরনের কালি, সিকিউরিটি সিলসংবলিত স্ক্রিন বোর্ড, গাম ও জাল রুপি বানানোর জন্য ব্যবহূত সিল মারা ফয়েল পেপার।

ডিবি জানায়, ৯ জুলাই রামপুরার উলন রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জাল বাংলাদেশি টাকা তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পায় ডিবি। সেখানে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় রুপি তৈরিতে ব্যবহূত বিশেষ ফয়েল পেপারের সূত্র ধরে এই জাল ভারতীয় রুপি তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিবি।

গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ভারত থেকে অবৈধপথে পণ্য চোরাচালানের সময় এসব জাল রুপি ব্যবহার করা হয়। সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোরে তাদের সিন্ডিকেট রয়েছে। সূক্ষ্মভাবে ও প্রায় নির্ভুলভাবে জাল রুপি বানানোর কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছিল। এ কাজে কারিগর হিসেবে কাজ করত আব্দুর রহিম ও রনি ডি কস্তা।