পরিবর্তনকে অর্থবহ করিতে হইবে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৫:০৯

যে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে কেন পরিবর্তন আসে বা তাহার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়? মানুষ তখনই পরিবর্তনের জন্য জীবন বাজি রাখিয়া লড়াই-সংগ্রাম করে, যখন বিদ্যমান ব্যবস্থায় তাহার দম বন্ধ হইয়া যাইবার উপক্রম হয়। বহু ত্যাগতীতিক্ষার পর যখন সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনটা আসে, তখন তাহারা তাহাকে স্বাগত জানায় এবং নূতন আশায় বুক বাঁধে; কিন্তু যদি সবকিছু পূর্বের মতো চলিতে থাকে, তাহা হইলে সেই পরিবর্তনের সার্থকতা কোথায়? যদি আন্দোলন-সংগ্রাম ও বহু জীবন উৎসর্গের পরও কাঙ্ক্ষিত ও গুণগত পরিবর্তন না আসে, তাহা হইলে মানুষের আশাহত হইবারই কথা । এখন প্রশ্ন হইল, সেই পরিবর্তনকে অর্থবহ করিয়া তুলিবার উপায় কী?

আমরা মনে করি, বিগত সরকার যাহা করিয়া সমালোচিত হইয়াছে তাহা হইতে বিরত থাকিতে পারিলে পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হইতে থাকিবে; কিন্তু পূর্বের মতোই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়া হয়রানির মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল বা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করিবার অপকৌশল যদি চলিতে থাকে, তাহা হইলে জন-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমরা কি সেই পরিবর্তনের পথে হাঁটিতে পারিব? কেহ কোনো অন্যায় বা দোষ করিয়া থাকিলে তাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা লওয়া যাইতেই পারে; কিন্তু পাইকারি বা ঢালাওভাবে মামলা দিয়া হয়রানি করিবার উদ্দেশ্য কী? ইহাতে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তির সামাজিক ও পারিবারিক জীবন দুঃসহ হইয়া উঠিয়াছে । বিস্ময়কর ব্যাপার হইল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাদী আসামিকে চিনেন না, আসামি চিনেন না বাদীকে । কিংবা বাদী ঢাকায় থাকিলেও আসামি থাকেন খুলনা বা অন্য কোনো দূরবর্তী স্থানে । ফলে এই সকল মামলার মেরিট লইয়া প্রশ্ন উঠা অস্বাভাবিক নহে ।

ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় এমন সংবাদও প্রকাশিত হইয়াছে যে, এই ধরনের মামলা লইয়া দেদার চলিতেছে মামলা-বাণিজ্য । ইহা লইয়া বিস্তর সমালোচনা উঠিবার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ হইতে বলা হইল যে, সকল মামলা আসলে আমলে লওয়া হইবে না। যাচাই-বাছাই শেষে বাদ দেওয়া হইবে; কিন্তু সরকারের মেয়াদ প্রায় ছয় মাস হইতে চলিল; কিন্তু সেই যাচাই-বাছাই শেষ হইবে কবে? বিগত সরকারের মতো মামলাকে যদি নির্যাতন-নীপিড়নের হাতিয়ার বানানো হয়, তাহা হইলে তাহা লইয়া দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠিতেই থাকিবে। শুধু মামলা নহে, কারণে- অকারণে বিদেশযাত্রার উপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হইয়াছে অনেকের বিরুদ্ধে। ইহা যদি অন্যায় ও অবিচারমূলক হয়, তাহা হইলে তাহা কেন দ্রুত যাচাই-বাছাইপূর্বক ব্যবস্থা লওয়া হইবে না?

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণঅভ্যুত্থান বা পরিবর্তনের ফসল । এখন সরকারকে প্রমাণ করিতে হইবে যে, তাহারা বিগত সরকারের চাইতে ব্যতিক্রম ও আলাদা । তাহাদের কথা ও কাজে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন । নতুবা আজ হউক, কাল হউক দেশে নূতন করিয়া একই সমস্যা বা অস্থিরতা দেখা দিবে বা তাহা দেখা দিতে বাধ্য যাহা আমাদের মোটেও কাম্য হইতে পারে না । প্রতিটি পরিবর্তনের সময় সাধারণ মানুষ চাহে—তাহারা যেন তাহাদের সকল গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার লইয়া আত্মসম্মানের সহিত নির্ভয়ে ও নিরাপদে এবং শান্তি- স্বস্তিতে বসবাস করিতে পারেন । পরিবর্তনকে অর্থবহ করিতে হইলে আমাদের এই নীতিই অনুসরণ করিতে হইবে ।

ইত্তেফাক/এনএন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন