মাদ্রাসায় খালেদা জিয়ার নাম থাকায় ১৭ বছর হয়নি সংস্কার

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৪

বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির বেগম খালেদা জিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় সৃষ্টি হয়েছে বেহাল দশা। এই মাদ্রাসার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার নাম থাকায় আওয়ামী লীগের টানা মেয়াদে এটি সংস্কার না হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জরাজীর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ শুধু মাত্র নামের কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছে এ মাদ্রাসা।

স্থানীয়রা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনাইমুড়ির বগাদিয়া এলাকায় ঢাকা নোয়াখালী মহাসড়কের পাশেই ১৯৯০ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পর অর্থ্যাৎ ২০০২ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য বগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুর ১ একর ৪৭ শতাংশ জমি দান করেন। পরে তার ছেলে-মেয়ের অর্থায়নে একটি প্রশাসনিক ভবন তৈরি করা হয়। আর্থিক সংকটের কারণে ২য় তলা নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। মাদ্রাসার বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা তিন শতাধিক। তাছাড়া পশ্চিমে রয়েছে একটি সেমিপাকা ঘর। সেখানে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ক্লাস চলে।

জরাজীর্ণ ভবনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মাদ্রাসাটি। এমনকি সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই এই মাদ্রাসায়।

এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, মাদ্রাসার নামের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার নাম থাকায় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসন আমলে এ মাদ্রাসায় সরকারিভাবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। শুধু নামের কারণেই উন্নয়নে বৈষম্যের শিকার হয়েছে এই মাদ্রাসা।

মাদ্রাসা সুপার নুরুল আমিন বলেন, এই এলাকার নারী শিক্ষায় এ মাদ্রাসাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকলেও এটি সরকারি উন্নয়ন বঞ্চিত। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ মাদ্রাসাটি বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে মাদ্রাসার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।

 

ইত্তেফাক/এপি