>> মো. রাকিবুল হক
বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরা প্রায়ই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করে দেশের সুনাম বাড়াচ্ছেন। এমনই দুই তরুণী হলেন জেবা খান ও শমী হাসান। সম্প্রতি ঘোষিত প্রিন্সেস ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই দুজন।
ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসের প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস ডায়ানার নামে নামকরণ করা হয়েছে এই অ্যাওয়ার্ডটির। প্রিন্সেস ডায়ানার দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারি সরাসরি এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে থাকেন। সমাজসেবায় যুক্ত তরুণদের ২০ বছর ধরে দেওয়া হচ্ছে ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড। গত ১ জুলাই প্রিন্সেস ডায়ানার জন্মদিনকে উপলক্ষে করে ঘোষণা করা হয়েছে এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম।
কিশোরগঞ্জের বিশ্বনাথপুরের মেয়ে জেবা খান। মেয়েদের মাসিক নিয়ে প্রচলিত নানা সমস্যা, কুসংস্কার, মাসিকের সময় করণীয় কী—এসব নিয়েই মূলত কাজ করে থাকেন তিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মেয়েরা মাসিকের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে না, অনেকে মাসিকের সময় স্কুলে যায় না, এছাড়া গ্রামে মাসিক নিয়ে রয়েছে নানা কুসংস্কার। তবে এমনটা যে শুধু বাংলাদেশেই নয়, তারও প্রমাণ পেয়েছে জেবা খান। ২০১৫ সালে যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যান, সেই উন্নত দেশেও মাসিক নিয়ে নানা কুসংস্কার তাঁর চোখে পড়ে। তখন তিনি ভাবলেন, এ নিয়ে কিছু করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পিরিয়ড ইনক’-এর সঙ্গে পিরিয়ড নিয়ে কাজ শুরু করে জেবা খান। বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, মাসিক বিষয়ক সচেতনা তৈরির জন্য সভা, আলোচনা সভা, কর্মশালায় আয়োজন করে থাকে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জেবা মাসিক সম্পর্কিত সমস্যাগুলো রোধে কাজ করতে থাকেন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে পেলেন প্রিন্সেস ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় (ইউবিসি) ‘নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান ফিজিওলজি’ বিষয়ে শেষ বর্ষে অধ্যয়ন করা জেবা কাজ করছেন গবেষক হিসেবেও। বাংলাদেশেও মাসিক নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে স্কুল পর্যায় থেকেই কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। দেশে তাঁরা একটি দল গড়ে তুলছেন।
জেবার মতো প্রায় একইরকম কাজ করে যাচ্ছেন অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত আরেক তরুণী শমী হাসান। পয়োনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা, মাসিকের সময় করণীয় কী এবং মাসিক নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শমী। প্রায় সাত বছর ধরে এসব বিষয়ে তিনি কাজ করছেন। এছাড়াও অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটি নামের একটি সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক শেষ করেছেন। স্বাস্থ্য সচেতনা নিয়ে কাজ করে যাওয়া শমীর এই কাজে যুক্ত হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি হূদয়বিদারক ঘটনা। ২০১৪ সালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শমীর মা না-ফেরার দেশে চলে যান। তখন থেকেই বিশুদ্ধ পানি ও পরিচ্ছন্নতা এবং স্যানিটেশনের বিষয় নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে তাঁর জেদ চাপে। ময়মনসিংহের পতিতাপল্লী, হরিজনপল্লী ঘুরে তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। টয়লেটের সমস্যার সমাধানের জন্য একটি সামাজিক উদ্যোগের মডেল তৈরি করছেন। তরুণদের নিয়েও রয়েছে তাঁর নানা পরিকল্পনা।
