ফুলবাড়ীয়ায় আনারসে অতিরিক্ত কেমিক্যাল!

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:১১

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ফুলবাড়ীয়ায় আনারস গাছে ফুল আসার পর থেকেই শুরু হয় মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ। রাসায়নিক কেমিক্যালে বড়ো হতে থাকা আনারসে কয়েক দফা রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগের পর তা বাজারে তোলা হয় ফরমালিন মিশিয়ে। মানুষ পেটের অসুখসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আনারস কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

উপজেলার সন্তোষপুর বনাঞ্চলে আবাদ হওয়া আনারস চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই মাসের দিকে আনারস প্রাকৃতিকভাবে পাকার কথা থাকলেও মে মাস থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। ইথোপেন ও কার্বাইডে পাকানো এসব আনারস বাজারে তোলার পর মানুষ একবার আনারস কিনে পরে আর কিনতে চান না। ফলে মৌসুমে দাম কমে আনারসের।

আনারস চাষি মজনু জানান, সবাই আনারসে এখন মেডিসিন প্রয়োগ করে পাকান। আনারস খেতে কোনো চাষিই যদি মেডিসিন প্রয়োগ না করতো তবে আমিও করতাম না।

চাষি নজরুল জানান, সঠিকমাত্রায় কেমিক্যাল প্রয়োগ দোষের নয়। কিন্তু ক্ষতিকর কেমিক্যাল পাকিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহ করা বড়ো ধরনের প্রতারণা।

আনারস কিনতে আসা পাইকার শফিক জানান, ২০১১ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে বেনাপোল বন্দর হয়ে সীমিতভাবে ভারতে আনারস রপ্তানি হতো। কিন্তু কেমিক্যালে আনারস পাকানোর বিষয়টি নজরে আসায় রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন আনারস কিনে ঢাকা, যশোর, রাজশাহী, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় পরিবহন করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারগিস আকতার আনারসে কেমিক্যালে প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আনারসে মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ হয়। আমরা কৃষক পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি মাত্রা ঠিক রাখার জন্য। অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন কাজ। তারপরও আমাদের চেষ্টার কমতি নেই।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীরা তরফদার জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।