অধস্তনের হাতে লাঞ্ছিত বিএফআরআই ডিজি

অভিযুক্ত উপপরিচালক সাসপেন্ড, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:১৫

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রকে লাঞ্ছিত করেছেন তারই অধস্তন সহকর্মী উপপরিচালক সেখ রাসেল। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিকল্পনা কমিশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বিএফআরআইয়ের ঐ উপপরিচালককে। তাকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনে পূর্বনির্ধারিত মিটিং শেষ করে বের হওয়ার সময় কমিশনের সামনে উপপরিচালক সেখ রাসেল ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী ভাড়া করে মহাপরিচালকের গাড়ির পথ রোধ করে আক্রমণ করেন। এ সময় তারা গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাথি মারে। একপর্যায়ে মহাপরিচালক গাড়ির জানালার গ্লাস নামিয়ে কথা বলতে গেলে উপপরিচালকসহ সন্ত্রাসীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। শেখ রাসেল মহাপরিচালককে তার বিরুদ্ধে অফিস কর্তৃক আনীত সব অভিযোগ এবং বিভাগীয় মামলা উঠিয়ে নিতে বলেন এবং মহাপরিচালককে লিখিত কাগজে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করতে বলেন। মহাপরিচালক কাগজে স্বাক্ষর করতে না চাইলে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তারা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। 

বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানালে শেরে বাংলা নগর থানার পুলিশ এসে রাসেলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সভা করা হয়। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা, সচিব, বিএফআরআই মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপপরিচালক সেখ রাসেলকে সাময়িক বরখান্ত ও ঘটনা তদন্তে মন্ত্রণালয়ের যগ্ম-সচিব শাহীনা ফেরদৌসীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালে সেখ রাসেল উপপরিচালক হিসেবে বিএফআরআইয়ে যোগ দেন। এ সময় মহাপরিচালক ছিলেন ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ অবসরে গেলে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ড. জুলফিকার আলী। মূলত এ সময় থেকে সেখ রাসেল মহাপরিচালকের আশ্রয়প্রশ্রয়ে বিএফআরআইয়ের বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ড. জুলফিকারের পর মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন ড. মোহসেনা বেগম তনু। কিন্তু মহাপরিচালক ড. তনু সেখ রাসেলের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বিভিন্ন হিসেবে গরমিলের কারণে তিনি উপপরিচালক সেখ রাসেলকে অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। 

এ নিয়ে অফিসে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। মাত্র দুই মাস তিনি মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বর্তমান মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র নিয়োগ পান। তার এই নিয়োগের পেছনে সেখ রাসেলসহ একটি গ্রুপ কাজ করেছে বলে শোনা যায়। মহাপরিচালকের নিয়োগে খুশি হয়ে সেখ রাসেল অফিসে মিষ্টি বিতরণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি মহাপরিচালক তাকে অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে বলেন। তা না করায় তিনি মহাপরিচালকের ওপর ক্ষিপ্ত হন।

ইত্তেফাক/এনএন