'জবওয়ে' এয়ার হোস্টেস কোচিংয়ে নারীকে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:০৭

জবওয়ে কোচিং সেন্টার নামে একটি এয়ার হোস্টেস কোচিংয়ে গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন একজন নারী। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে উঠেছে এই অভিযোগ। 

এ ঘটনায় কোচিং সেন্টারটির এমডি সোহেল রানা ফ্রিজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক মাস কারাবাসের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন।

গত বছরের ৭ জানুয়ারি বিকালে জবওয়ে কোচিং সেন্টারের এমডি সোহেল রানা ওই নারীকে হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্তে যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ গত ৪ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর ফার্মগেটে ইন্দিরা রোডের জবওয়ে কোচিং সেন্টারে ৩১ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হন। কয়েক দিন পর কোচিং সেন্টারের এমডি সোহেল রানা ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। রানা তার নিজের মোবাইল ফোন নম্বর থেকে হোয়াটস অ্যাপে প্রায়ই অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতেন ওই নারীকে। পরে ওই নারী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গত বছরের ২ এপ্রিল সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি।

সংবাদ উপস্থাপনা ও এয়ারহোস্টেস প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান "জবস এ-ওয়ান"-এর কর্নধার ফয়সাল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, 'সোহেল রানা আমার প্রতিষ্ঠানে রিসেপশনিষ্ট  হিসেবে কর্মরত ছিলো, পরবর্তীতে অশালীন কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে বের করে দেয়া হয়। পরে সে নিজে ‘জবওয়ে কোচিং সেন্টার’ নামে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে নানারকম অনিয়ম ও দূর্নীতিমূলক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের নাম প্রায় একই হওয়ায় এবং আমার কর্মচারী হিসেবে পরিচিত পাওয়ায় তাঁর নানান কর্মকান্ডের দায়ভার আমার উপরে এসে পড়ে।

গত ২৪ জানুয়ারি পান্থপথ মোড়ের কনসেপ্ট টাওয়ারে অবস্থিত "জবস এ-ওয়ান"-এর ক্যাম্পাসে সোহেল রানা পরিকল্পিতভাবে কিছু মিডিয়াকে ভুল বুঝিয়ে ডেকে এনে আমার প্রতিষ্ঠানে তার ভর্তিকৃত এজেন্টদের দ্বারা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে এবং ক্যাম্পাসে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।  জাতির সামনে "জবস এ-ওয়ান" প্রতিষ্ঠানটির গত ২০ বছর যাবৎ তিলে তিলে গড়ে ওঠা সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালায়। অচিরেই তার এই অপতৎপরতার মুখোশ উন্মোচন হবে বলে আমি আশাবাদী।

এই মামলায় আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম আজম বলেন, সম্প্রতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এখন জামিনে আছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি