৭৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির ১০৬৪ রুপি মোদীকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ চাষির

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৩১

তিনি অভিনব প্রযুক্তির সাহায্যে কার্যত কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। ২০১০ সালে নিজের উদ্ভাবনীর গল্প শুনিয়েছেন খোদ বারাক ওবামাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টও মহারাষ্ট্রের সেই চাষীর সাফল্যের কাহিনী শুনে প্রশংসা করেছেন। ফের শিরোনামে মহারাষ্ট্রের নাসিকের সেই চাষী সঞ্জয় শাঠে।

এবার অবশ্য সাফল্যের গল্প নয়। বরং মহারাষ্ট্রের চাষীদের ভয়ংকর এক দুর্দশার ছবি তুলে ধরে। এ বছর ৭৫০ কেজি পেঁয়াজ কেজি প্রতি দেড় রূপিরও কম দরে বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ১০৬৪ রূপি। সেই অর্থ পাঠিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীকে। ৮ বছর আগে যে মোদী সরকার তাকে বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করিয়ে সাফল্যের গল্প শুনিয়েছিল, তারই প্রধানমন্ত্রীকে ফসল বিক্রির অর্থ পাঠিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করলেন সঞ্জয় শাঠে। নাসিকের নিফাদ তহসিলের সম্ভ্রান্ত চাষী সঞ্জয় বলেন, এবার ফলন ভালই হয়েছিল। স্থানীয় নিফাদ পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি এক রূপি দর দেয় ব্যাপারীরা। শেষ পর্যন্ত এক রূপি ৪০ পয়সা দরে রফা হয়। ৭৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে হাতে পাই মাত্র ১০৬৪ রূপি। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে সঞ্জয় বলেন, টানা চার মাস মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রমের দাম এই! এই সামান্য অর্থ দিয়ে কি করবো? তাই সিদ্ধান্ত নিই, প্রধানমন্ত্রীর বিপর্যয় মোকাবেলা তহবিলে পাঠিয়ে দিই। মানি অর্ডার করতে খরচ হয়েছে আরো ৫৪ রূপি।

জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর নিফাদ পোস্ট অফিস থেকে ওই মানি অর্ডার করা হয়। ঠিকানা ছিল- ‘নরেন্দ্র মোদী, প্রাইম মিনিস্টার অব ইন্ডিয়া’। সঞ্জয় বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দল করি না। কিন্তু কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে সরকারের উদাসীনতা ও বিরূপ মনোভাবে আমি হতাশ, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত।’ দেশের প্রায় ৫০ ভাগ পেঁয়াজের উত্পাদন হয় মহারাষ্ট্রের এই নাসিক থেকেই। কিন্তু প্রায় প্রতি বছরই দাম না পেয়ে হতাশ হতে হয় চাষীদের। মাঝেমধ্যেই আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। - আনন্দবাজার পত্রিকা